বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

গ্রীষ্মের আগেই বেড়েছে লোডশেডিং

বিশেষ প্রতিনিধি

গ্রীষ্মের আগেই বেড়েছে লোডশেডিং

দেশে এমনিতেই গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং দিতে হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। তার ওপর এ বছর জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রীষ্ম আসার আগেই সারা দেশে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ১৩ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই সময় লোডশেডিং দেখানো হয় ৬০৭ মেগাওয়াট। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোডশিংয়ের খবর আসে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ৪ এপ্রিল তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল এটি নেমে আসে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এসেছে চার হাজার মেগাওয়াটের মতো। ভারতের তিনটি কেন্দ্র (আদানি, ভেড়ামারা ও ত্রিপুরা) থেকে এসেছে গড়ে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের মতো।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে সার কারখানাগুলোও প্রায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি উদ্যোক্তরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। ভারতের আদানির কাছ থেকেও দ্বিগুণ দামে বিদ্যুৎ আমদানি করছে সরকার। তাদের বিপুল বকেয়ার জন্য চাপ আসছে। চলতি গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে পিডিবি। এ টাকা না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তাদের পক্ষে এটির জোগান দেওয়া খুবই কঠিন হবে। বিদ্যমান যুদ্ধাবস্থায় চাহিদামতো গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস ওয়েল জোগান দেওয়াও কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

উৎপাদন ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ১ এপ্রিল রাত ১২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় ন্যাশনাল গ্রিডে (জাতীয় সঞ্চালন লাইন) সরবরাহ হয় ১৩ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট। ফলে ওই দিন দেশ ছিল লোডশেডিংমুক্ত।

২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ওই সময় সরকার জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে ১৪ হাজার ৮৬৪ মেগাওয়াট। সেদিন ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করে পিজিসিবি। ৪ এপ্রিল রাত ১১টায় ১৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ওই দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় এক হাজার ৭৫ মেগাওয়াট।

দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধে সরকারের নির্দেশনা

মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার সরকারের এ নির্দেশনার কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এর আগে গত ২ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানান বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোকান মালিক সমিতি আমাদের কাছে একটি আবেদন করেছিল, যাতে তাদের কমপক্ষে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও মন্ত্রিসভা বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী দোকান মালিক সমিতির আবেদন এবং অনুরোধ বিবেচনা করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেন। অবশ্য যারা জরুরি সেবা দেয়, তারা এর আওতামুক্ত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...