আবু সুফিয়ান

একদিকে মাথার ওপর ধেয়ে আসা ড্রোন ও মিসাইলের শিকার হওয়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফেরার শঙ্কা—এ দুই আগুনের মাঝে দাঁড়িয়ে দিন কাটছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু তাদের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং তছনছ

একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের অধীন রাষ্ট্র সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের দাবি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে পুরোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ছায়া প্রকট হয়ে উঠছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ম

পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৫ ও ৩০৬ নম্বর রোডের আশপাশে জনশূন্য খালি প্লটগুলোকে এই অসাধু চক্র তাদের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার অভাবে রাতের অন্ধকারে সেখানে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতারাতি সেগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন বাজারে।

দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো শক্তিশালী করতে লাইসেন্স পাওয়া তিনটি বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির কার্যক্রম এবং তাদের গঠিত ‘কনসোর্টিয়ামের বৈধতা’র বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো শক্তিশালী করতে লাইসেন্স পাওয়া তিনটি বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির কার্যক্রম এবং তাদের গঠিত ‘কনসোর্টিয়ামের বৈধতা’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যারা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশের পথ গড়েছিলেন, এবারের ঈদে তাদের অনেকের ঘর ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা। আনন্দের বদলে ছিল কেবলই বিষাদের ছাপ। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাকের ঘ্রাণ আর ফিরনি-সেমাইয়ের আয়োজন, তখন শহীদ পরিবারগুলোতে ছিল কেবলই শূন্যতা আর অবহেলার দীর্

বিতর্কিত নজরদারি সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। কিন্তু নতুন সরকার এসে এনটিএমসির মেয়াদ আরেক বছর বাড়িয়েছে। অপরদিকে ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে কুখ্যাত র্যাবের নাম ও পোশাক বদলের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই।

ঐতিহাসিকভাবে কওমি অঙ্গন ধর্মীয় শিক্ষা, বিস্তৃত মাদরাসা নেটওয়ার্ক ও ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক প্রভাবের জন্য পরিচিত। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ রক্ষা করা হলেও গত কয়েক দশকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন, রাজনৈতিক কৌশলের পার্থক্য, নেতৃত্বগত মতানৈক্য ও প্রজন্মগত ফারাকের কারণে সেই লক্ষ্য প্রায়ই হোঁচট খে

চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকার ক্ষমতার সমীকরণ বদলেছে; আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যও নতুনভাবে সাজছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই পানি, বাণিজ্য, ট্রানজিট ও নিরাপত্তার মতো বহুমাত্রিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একদিকে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসার নানা পাঁয়তারা করছে।

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ঘিরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও সহিংসতার অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিবারই নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার নানা অভিযোগ দেখা যায়। ১৯৯১-পরবর্তী প্রায় প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে সদ্য

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাগ্যুদ্ধ। দুদলই দিচ্ছে হরেক রকমের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বিএনপি এখন মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান। জামায়াতকে ঘায়েল করতে বিএনপির মূল অস্ত্র ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ ইস্যু।

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে রক্তে ভেসেছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা শহরের পথঘাটে পড়ে ছিল শিক্ষার্থী, পথচারী, দিনমজুরের লাশ। ইতিহাসের নৃশংসতম সেই গণহত্যার একটি মামলায় গত বছর ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ম

র্যাবে নিয়মিত টহল ও তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’-এর পাশাপাশি একটি গোপন অভিযান চলত, যা ‘গলফ অপারেশন’ নামে পরিচিত ছিল। এতে চোখ ও হাত বাঁধা, দুর্বল ও নোংরা পোশাক পরা আটক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হতো। একাধিক ঘটনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান (পরে মেজর জেনারেল)

মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছাড়াই কোন আইনি ভিত্তিতে সংস্থার অর্থে এসব সফর চলছে, তা নিয়েও প্রকাশ্য সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের মনোনয়ন ছাড়া বিদেশ সফরের সরকারি আদেশ (জিও) পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সংস্থাগুলোকে কার্যত নির্ভরশীল ও জিম্মি অবস্থায় ফেলেছে।

ঢাকার শাপলা চত্বরের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ২০১৩ সালের ৬ মে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সহিংসভাবে দমন করেছিল। নিহতদের ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ, যারা মাদরাসার ছাত্র ছিলেন না, তাদের গড় বয়স ছিল ২৯ বছর। মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশ ঘটেছিল গুলির আঘাতে।

কমিশনের প্রতিবেদনে একজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেই কর্মকর্তা কমিশনকে বলেন, রাতে কর্নেল জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যদের সহায়তায় একটি ‘গলফ অভিযান’ পরিচালনা করা হয়। সেখানে নাম না জানা ৪ জন ব্যক্তিকে প্রথমে গুলি, পরবর্তীতে পেট কেটে সিমেন্টে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের বিচারব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে দমন-পীড়নকে বৈধতার ছদ্মবেশ দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। আইনের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে এটি বারবার এমনভাবে ব্যবহার করা হতো যাতে ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। অবৈধ আটককে স্বাভাবিক

আওয়ামী আমলে গুমে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে বহু নিরীহ ব্যক্তিকে গুম করার প্রমাণ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে আটক করে ভয়াবহ নিপীড়ন করতেন

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর গুমের খবর শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আকবর হোসেন। একইভাবে মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান নামেই বেশি পরিচিত)-এর গুমের খবরও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকর্তাদের নজরদারি, তাদের পালানোর পথ বন্ধ করা কিংবা প্রতিটি ঘটনার পর ব্যর্থতা পর্যালোচনার দায়িত্বই কোনো একক ইউনিট নেয়নি। এটি তখনই সম্ভব, যখন এসব পলায়নকে অগ্রাধিকারভিত্তিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ইস্যু হিসেবে বিবেচনার

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেনাবাহিনী যখন ব্রিগেডিয়ার আজমির অপহরণ পরীক্ষার জন্য একটি কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠন করে, ঠিক সে সময়ই র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের অভিযোগটি তদন্ত করতেও সেনাবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ‘গুম’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। শুধু পুরুষ নয়, অনেক নারীও র্যাব ও অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার হন। গুম সম্পর্কিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তত ২৩ জন নারী গুমের শিকার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তাকাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে অমূল্য রাষ্ট্রীয় রত্ন দরিয়া-ই-নূর ১১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত—এমনটাই বলা হয় সরকারি নথিতে। কিন্তু বাস্তবে এই হীরা স্বচক্ষে দেখেছেন—এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। সবশেষ ১৯৮৫ সালে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট খোলা হয়েছিল। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। এই দীর্ঘ সময়ে দরিয়া-ই-নূর

কমিশনে দাখিল হওয়া ৯ হাজার ১৯১টি অভিযোগের মধ্যে একাধিকবার দাখিলকৃত ২ হাজার ৩১৩টি এবং প্রাথমিক যাচাইয়ে গুমের সংজ্ঞার বাইরে বিবেচনায় ১ হাজার ৩১০টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে ৫ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩৬ জনের ক্ষেত্রে গুমের পর লাশ উদ

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যযুক্ত চর্চা, যার প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ‘জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার থেকে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আপসহীনতা, দৃঢ়তা এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের এক বিরল প্রতীক হিসেবে। শতাধিক বছরের উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি এমন একজন রাজনীতিক, যিনি প্রবল প্রতিকূলতা, ব্যক্তিগত কষ্ট ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মুখেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে ন্যূনতম আপসে যাননি।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম, খ্রিষ্টান ও দলিতদের ওপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী হামলায় এক মুসলিম শিক্ষকসহ দুই মুসলিম এবং একজন দলিত নিহত হয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর আমেরিকাকেন্দ্রিক ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বিশ্বরাজনীতিতে একটি প্রধান নিরাপত্তা বয়ান হিসেবে গড়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বয়ান শুধু আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি বৈশ্বিক একটি নীতিকাঠামোয় পরিণত হয়

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সম্প্রতি সরকারি অনুষ্ঠানে মুসলিম নারী চিকিৎসকের হিজাব প্রকাশ্যে টেনে খুলে ফেলে ভারতীয় সরকারের ক্ষমতা কাঠামোর প্রচণ্ড ইসলামবিদ্বেষী চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছেন। হিজাব পরিহিত নবনিযুক্ত ওই চিকিৎসক তার নিয়োগপত্র নিতে এসেছিলেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি আগা রায়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ায় ২০২১ সালের ১৮ জুন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ইসলাম গ্রহণের আগে তার নাম ছিল বেন্নাচন্দ্র ত্রিপুরা। তিনি তার পরিবারসহ ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। তার অপরাধ ছিল একটাই— তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতেন।

পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা কি অবশ্যম্ভাবী ছিল, নাকি সময়মতো ব্যবস্থা নিলে তা প্রতিহত করা সম্ভব হতো—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের সময় র্যাবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পিলখানায় মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি কেবল একটি বিদ্রোহ ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত একটি ভূরাজনৈতিক অপারেশন?

জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, পালিওয়ালের বইয়ে যে বাক্যটি উদ্ধৃত হয়েছে, তা সঠিক। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় আমি কলম্বোতে সার্ক বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলাম।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, তাপসকে আজীবন নিরাপত্তা দিতে এবং সেনাবাহিনীতে ভয় তৈরি করতে সম্পূর্ণ সাজানো, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘তাপস হত্যাচেষ্টা মামলা’ দাঁড় করানো হয়েছিল। যাতে সেনাবাহিনীর কোনো অফিসার বিডিআর বিদ্রোহে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মুখ খুলতে না পারেন।

পিলখানার পেশ ইমামের হেফাজতে মৃত্যু, তার ওপর দেওয়া চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জবানবন্দি পরিবর্তনের চেষ্টা–সব মিলিয়ে একটি গভীর উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে, যা আজও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ডিজিটাল কানেকটিভিটি, হাই-টেক পার্ক, এ-টু-আই প্রকল্প ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসহ পুরো আইসিটি খাতে অনিয়ম, পরিকল্পিত পদ্ধতিগত অপচয় এবং দুর্নীতির মাধ্যমে আইসিটি খাতকে কীভাবে শেখ পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল-সেই চিত্র উঠে এসেছে এতে।

একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার অনেকটাই নেই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে। এখানে হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় সামিটকে সাবমেরিন ক্যাবলের লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সেই লাইসেন্স বাতিলে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তিন প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ মালিক দেশ থেকে পলাতক। তারা বিদেশে বসে অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে ব্যান্ডউইডথ সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অপর নাম ‘রাতের ভোট’। ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির কারণে নির্বাচনটি এ পরিচিতি পায়। এই কর্মযজ্ঞ আনজাম দেওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। এজন্য ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আট হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। এই অর্থ জোগাড় করা হয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

রাতের ভোটের অন্যতম কারিগর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি তিনি এক বছর আগেই নেওয়া শুরু করেন। ওই বছরের জানুয়ারিতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিরোধীদের দমনের অঙ্গীকার করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কপোতাক্ষ’ নামে একটি কক্ষ আছে। এটি সাধারণ অফিসরুম হলেও ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্যবহার করা হয় অস্বাভাবিক কাজে। সেখানে বসে একদল পুলিশ কর্মকর্তা তৈরি করে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত ‘ভোট ডাকাতির’ নীলনকশা।

অতি ক্ষুদ্র কণার বিজ্ঞান বা ন্যানো প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও শিল্পের যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ন্যানো প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পটি সরকারি নির্দেশে অসমাপ্ত রেখেই বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ জুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত

রাজধানীর বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুর ও কলাবাগান এলাকার আট তরুণকে হঠাৎ রাতের আঁধারে তুলে নিয়েছিল র্যাব। ঘটনার শিকার পাঠাওয়ের তখনকার সফটওয়্যার প্রকৌশলী আরাফাত জানান, বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি মোট চার কোটি ৯০ লাখ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। সরকার বলছে, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত ও নিরাপদ টিকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টিকার ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতা ডেটা ও লং টার্ম কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশ-বিদেশে

বাংলাদেশের শিপিং খাতে এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে, যা ব্যবসার আড়ালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনীতি এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড। সংস্থাটি ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি জেডআইএম ইন্টিগ্রেটেড শিপিং সার্ভিসেস লিমি

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন (৩৪)। ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি তার ব্লাড ক্যানসার (অ্যাকিউট প্রমাইলোসাইটিক লিউকেমিয়া) ধরা পড়ে। প্রথমে চিকিৎসা শুরু হয় মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লির প্রতি নতজানু নীতি ও কূটনৈতিক নমনীয়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ভারতীয় বলয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। প্রকল্পটি রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়ন হলেও ভারত কৌশলগত ও প্রযুক্তিগতভাবে সুবিধা এবং স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত দেড় দশক ধরে চালানো তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানগুলো মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস, জাতীয় নির্বাচন অথবা রাজনৈতিক উত্তেজনার আগমুহূর্তে হঠাৎ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান, ‘বড় হামলা নস্যাৎ করা হয়েছে’Ñএমন খবর প্রচার করা হতো।