চাঁদা না পেয়ে পল্লী চিকিৎসকের ওপর শ্রমিকদল নেতার হামলা

বরিশাল অফিস

চাঁদা না পেয়ে পল্লী চিকিৎসকের ওপর শ্রমিকদল নেতার হামলা
শ্রমিক দলনেতা জিয়া সরদার : ছবি: আমার দেশ

বরিশালের বানারীপাড়ায় দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে এক পল্লী চিকিৎসককে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদলের স্থানীয় সভাপতি জিয়া সরদারের বিরুদ্ধে। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা ‘নাহার মেডিকেল হল’-এর স্বত্বাধিকারী পল্লী চিকিৎসক নাছির উদ্দিন মিলনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ৩ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া সরদার ও তার দলবল ।

বিজ্ঞাপন

তার দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন মিলন জানান, গত প্রায় দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত একাধিকবার তার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা আদায় করা হয়েছে।

সর্বশেষ ওই শ্রমিক দল নেতার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বে ধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রোববার রাত ৯টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে বিশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিম সাজ্জাদ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী তার মামা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত জিয়া সরদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, অভিযুক্ত জিয়া সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের ভাতিজা রহমত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম আমার দেশকে বলেন, শুনেছি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের এক নেতা এক পল্লী চিকিৎসককে মারধর করেছে। আহত ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসা করার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি লের ঊর্ধতারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে বানালপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...