তালতলীতে অস্তিত্ব সংকটে ৭১ খাল, বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা

উপজেলা প্রতিনিধি, তালতলী (বরগুনা)

তালতলীতে অস্তিত্ব সংকটে ৭১ খাল, বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি প্রবাহিত খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে। দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতায় চাষের জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, পায়রা নদী, অন্ধারমানিক নদী ও বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে উপজেলায় গড়ে উঠেছে শতাধিক শাখা খাল। একসময় এসব খাল শীত মৌসুমে মিঠা পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের অভিযোগ, গত দুই যুগে উপজেলার অন্তত ৭১টি খাল দখল হয়ে গেছে। কোথাও প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, আবার কোথাও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো ও রবি শস্য আবাদ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।

স্থানীয় কৃষক শাহআলম, মোস্তফা ও ইসমাইল হাওলাদার বলেন, আগে শীতকালে এই খালগুলোর পানি দিয়ে বোরো ধান ও তরমুজ চাষ করতাম। এখন খাল আছে শুধু নামেই। পানি না থাকায় জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। আবার বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই সব তলিয়ে যায়। খালের মুখ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে।” তারা দ্রুত খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খননযোগ্য খালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্রুত দখলমুক্ত করে পর্যায়ক্রমে খননের মাধ্যমে খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের দুর্ভোগ কমে আসে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন