বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারকালে পুলিশি নির্যাতনে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বেলা দেড়টায় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাঠেরপুল এলাকায়। আহত যুবক রেজাউল হাওলাদার (২২) উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের খাস মহেশপুর গ্রামের মোশারেফ হাওলাদারের পুত্র।
পুলিশ গ্রেপ্তারের পর আহত রেজাউলকে বেলা সোয়া ২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বরিশালে আদালতে প্রেরণ করেছেন।
রেজাউলের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা রানী তার পুত্র রেজাউলকে গ্রেপ্তারের নামে বিনা অপরাধে নির্যাতন করেছেন। তার ছেলের বউ তুবা আক্তার ঝালকাঠী আদালতে একটি যৌতুক মামলা করায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেয়- এটি তাদের জানা ছিল না। শনিবার দুপুরে পৌরসভার কাঠেরপুলে সেলুনে চুল কাটতে গেলে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা পুলিশের একটি টিম নিয়ে তার পুত্রকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সে ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চায়। এই অপরাধে এসআই সবিতা ও পুলিশ সদস্যরা তার পুত্র রেজাউলকে মারধর করে টেনেহিচড়ে অটো গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে পুনরায় নির্যাতন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত এসআই সবিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কাঠেরপুল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী তারা বানু জানান, রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে অটো গাড়িতে তোলার সময় দারোগা সবিতা তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাওয়ায় পুলিশ এ মারধর করে।
গ্রেপ্তারকৃত রেজাউলের বোন ডালিম বেগম জানান, তার ভাইকে গ্রেপ্তারের সময় ও থানায় নিয়ে এসআই সবিতা মারধর করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আদালতে প্রেরণকাল তার ভাই পুলিশ নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানিয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারকালে পুলিশের নির্যাতনের কোনো সুযোগ না থাকলেও কোন আইনে এসআই সবিতা তার ভাইকে মারধর করেছেন- এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে রেজাউলকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। রেজাউলের বুকে ও পায়ে আহতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তাদের জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার বুকে নখের আঁচর লেগেছে।
অভিযুক্ত এসআই সবিতা বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি পুলিশসহ রেজাউলকে গ্রেপ্তারের জন্য ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে থানায় বসে পুলিশ হেফাজতে যদি অন্য কেউ নির্যাতন করে তার দায়দায়িত্ব তার নয়।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, আসামি গ্রেপ্তারকালে পুলিশের মারধর বা নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই। যদি এসআই সবিতা আসামি গ্রেফতারকালে কোনো নির্যাতন করে থাকেন, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

