‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের লেডি ডন লাইলি গ্রেপ্তার

উপজেলা প্রতিনিধি, দেবিদ্বার (কুমিল্লা)

‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের লেডি ডন লাইলি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কথিত ‘লেডি ডন’ লাইলিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৭এপ্রিল) রাতে কথিত ‘লেডি ডন’ লাইলিকে আটক করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে টার্গেট নির্ধারণ করত। প্রথমে সম্পর্ক বা সমঝোতার কথা বলে ভুক্তভোগীদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হতো। পরে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হতো। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা ছিল চক্রটির মূল কৌশল। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডজনখানেক নেতাসহ বিভিন্ন পেশার বহু ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই কৌশলে আরও বহু লোককে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার রাতে চক্রের শিকার হন জাফরগঞ্জ গার্লস স্কুলের এক শিক্ষক। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা-পয়সাসংক্রান্ত একটি বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন নারী অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তাকে জিম্মি করেন।

এরপর তাকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে তার কাছ থেকে নগদ ৭ হাজার ৫৩০ টাকা নেওয়া হয়। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। চক্রটি আগামী ১৫ মে ২০২৬ এর মধ্যে আরও ৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন