গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভেজাল গুড় উৎপাদনের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ মন গুড় ধ্বংস এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগুফতা হক। এ সময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং ভাঙ্গারহাট নৌ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে কলাবাড়ী গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকারের ছেলে গুড় ব্যবসায়ী চয়ন সরকারের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল গুড় তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। জানা যায়, নিম্নমানের চিটাগুড়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, নন-ফুডগ্রেড রং ও ফ্লেভার, পচা ও নষ্ট মিষ্টি, ময়দা, সোডা ও চিনি মিশিয়ে খেজুর ও আখের গুড় তৈরি করা হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ মন ভেজাল গুড় জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে এবং কৃষি বিপণন আইনে অভিযুক্ত চয়ন সরকারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, অভিযানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে গুড় উৎপাদনের চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিটি ড্রামে পোকা পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের ভেজাল গুড় উৎপাদন শুধু প্রতারণাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিম্নমানের গুড় উৎপাদনের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত চয়ন সরকার তার দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

