জালিয়াতির অভিযোগে কাজি কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী

জালিয়াতির অভিযোগে কাজি কারাগারে
ছবি: আমার দেশ

বিবাহের ভুয়া কাবিননামা প্রদানের অভিযোগে নীলফামারী সদরের ১০ নম্বর কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এই আদেশ প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের মেয়ে মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুকাল পর থেকে স্বামী রমজান আলী তার স্ত্রী মেরির কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাবার বাড়ি থেকে দাবিকৃত টাকা এনে দিতে না পারায় মেরির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এ ঘটনায় মেরি আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আমলি আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা দাখিল করেন। তবে একই বিয়ের বিপরীতে দুটি ভিন্ন ধরনের কাবিননামা জমা পড়ায় আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্যালোচনায় নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি আব্দুল মজিদের সরবরাহকৃত কাবিননামাগুলো ভিন্ন ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় আদালত কাজিকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান শাসন জানান, একই বিয়ের বিপরীতে দুই ধরনের কাবিননামা প্রদান করে কাজি আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালতের কাছে এই জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে কাজির আটকের বিষয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আহসান হাবিব নামে এক যুবক বলেন, ‘আব্দুল মজিদ কাজি একজন প্রতারক, তিনি আমার বিয়ের কাগজও দুই ধরনের দিয়েছেন। এটা নিয়ে আদালত মামলা চলমান। এর বিচার চাই।.

নবীজুল ইসলাম নবীন নামের একজন বলেন, এরকম শত শত জালিয়াতি বিবাহ রেজিস্টারের অভিযোগ রয়েছে কাজি আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে।

আব্দুস ছালাম নামে একজন আইনজীবী বলেন, আব্দুল মজিদ কাজির মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে। তার নামে আদালতে অনেক মামলা চলমান রয়েছে। অনেক মামলায় তিনি হাজিরা দেন না। তার কারণে পারিবারিক মামলা বাড়ছে।

জেলা কাজি সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে দুজন কাজি রয়েছেন, যা নিয়ে বিতর্ক আছ। কাউকে বৈধ কাজি বলব না। এর পরও আব্দুল মজিদ বেপরোয়া হয়ে অসংখ্য ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন