সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন ইসহাকপুর (শাসনহবি) এলাকায় একটি গরুর মালিকানাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও পরবর্তীতে মধ্যরাতে বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রায় আড়াইশ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে ১৭টি বসতবাড়িতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। পুরুষশূন্য বাড়িতে কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসহাকপুর গ্রামের জিয়াউর খান ও আবরু মিয়ার মধ্যে একটি গরুর মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী আশরাফুল মিয়ার দাবি, তাদের একটি গরু মাঠ থেকে চুরি করে জিয়াউর খান নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গরুটি উদ্ধার করে নিয়ে আসায় জিয়াউর ও তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে শানুর মিয়াকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আলিফ উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, রিপন মিয়া, আবরু মিয়া এবং প্রতিপক্ষের জিয়াউর খাঁ, মগল খাঁ ও আক্তার খাঁসহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সন্ধ্যার এই সংঘর্ষের রেশ ধরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ শাবানা বেগম জানান, রাতের আঁধারে দুই থেকে আড়াইশ সশস্ত্র লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘরে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়। ইসলাম উদ্দিন, মেম্বার মিয়া, সুজন মিয়া, আবু জালি মিয়াসহ অন্তত ১৭টি পরিবারের বসতবাড়িতে এই তাণ্ডব চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, হামলাকারীরা বিভিন্ন ঘর থেকে নগদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সম্পদ লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই হামলার নেপথ্যে স্থানীয় সালিশি ব্যক্তিত্ব আছকির খাঁকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, আছকির খাঁ জিয়াউরের পক্ষ নিয়ে এই সন্ত্রাসী হামলার ইন্ধন দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আছকির খাঁ বলেন, গরুর মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে তিনি মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। হামলার সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে জিয়াউরের সমর্থকদের দাবি, গরুটি তাদেরই ছিল এবং আবরু মিয়ার লোকজনই প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।
ঘটনার খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

