বৈষম্যমূলক নীতিতে ইলেক্ট্রনিক্স শিল্পের নতুন উদোক্তাদের বিনিয়োগ হুমকির মুখে

আমার দেশ অনলাইন

বৈষম্যমূলক নীতিতে ইলেক্ট্রনিক্স শিল্পের নতুন উদোক্তাদের বিনিয়োগ হুমকির মুখে

বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্প, বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও এয়ার কন্ডিশনার খাতে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যমূলক এবং ঘন ঘন পরিবর্তনশীল নীতির কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৯ সালের পর সরকার প্রদত্ত কর ও শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা হঠাৎ প্রত্যাহার এবং নতুন শর্ত আরোপের ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কিছু প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এককভাবে এসব সুবিধা ভোগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে সরকারের প্রণীত নীতিমালার ভিত্তিতে বহু উদ্যোক্তা এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন। সে সময় আয়কর রেয়াত, কম ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে কর অব্যাহতি থাকায় শিল্প স্থাপনে উৎসাহ তৈরি হয়। কিন্তু শিল্প স্থাপনের তিন বছরের মধ্যেই ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এসব সুবিধা বাতিল করে নতুন করে কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নতুন প্রজ্ঞাপনে আয়কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ে।

এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে কমপ্রেসরের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক উচ্চ ‘মিনিমাম ভ্যালু’ নির্ধারণ করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তারা আরো বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ইতোমধ্যেই শিল্প খাতকে চাপে ফেলেছে। এর সঙ্গে নীতিগত অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

তারা দাবি করেন, শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল নীতি, কর ও শুল্ক হ্রাস, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো, আমদানি শুল্ক হ্রাস, ভ্যাট কাঠামো যৌক্তিক করা এবং কাঁচামালের ওপর নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার শিল্পকে একটি শক্তিশালী আমদানি বিকল্প ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন