বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

অক্টোবর-ডিসেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৬ শতাংশ

রোহান রাজিব

অক্টোবর-ডিসেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৬ শতাংশ

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে আগের তিন মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খাদের কিনারায় পৌঁছে যাওয়া আর্থিক খাতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও ঠেকানো গেছে। ডলার বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি রেমিট্যান্সও বেড়েছিল। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতি সন্তোষজনক করা যায়নি; বরং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে।

বিজ্ঞাপন

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এফডিআইয়ে মন্দাভাব চলছিল। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকার বড় কোনো সংস্কার করতে পারেনি। এছাড়া ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না। ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগও হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই এসেছে ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে নিট এফডিআই ছিল ৪৯ কোটি ডলার। সে অনুযায়ী বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগ ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে। তবে তিন মাসের ব্যবধানে বিনিয়োগ ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

একটি নির্দিষ্ট বছরে মোট বিদেশি বিনিয়োগ বলতে বাইরের উদ্যোক্তাদের নতুন পুঁজি, বিদ্যমান বিনিয়োগের মুনাফা থেকে পুনর্বিনিয়োগ এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়। একই সময়ে পুঁজি প্রত্যাহার, মূল কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিনিয়োগ হিসাব করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষ তিন মাসে নিট নতুন বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি এসেছে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। আগের বছর একই সময়ে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ ডলার। তবে তিন মাসের ব্যবধানে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে নিট এফডিআইয়ের ২১ কোটি ডলার এসেছে পুনর্বিনিয়োগ আয় থেকে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। তিন মাসের ব্যবধানেও এ খাতে বিনিয়োগ কমেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে আন্তঃকোম্পানি ঋণ থেকে এসেছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ খাতে ঋণ এসেছিল ৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, গত বছরের শেষ তিন মাসে চীনের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছেন। এ সময় চীন থেকে ৭ কোটি ৭২ লাখ ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার বিনিয়োগ এসেছে হংকং থেকে। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৬ কোটি ডলার। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এছাড়া নেদারল্যান্ডস থেকে এসেছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, নরওয়ে থেকে ৩ কোটি ডলার, শ্রীলঙ্কা থেকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং ভারত থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে, এর পরিমাণ ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। এরপরেই আছে ব্যাংক খাত। এর পরিমাণ ৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। টেক্সটাইল তথা বস্ত্র খাতে এসেছে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার এসেছে টেলিকমিউনিকেশন খাতে। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, কেমিক্যাল ও ওষুধ খাতে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আইটি খাতে ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ১ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন