ঢামেক হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন

মরহুমা খালেদা জিয়ার পরিচারিকা ফাতেমার ভাতিজি আইসিইউতে

স্টাফ রিপোর্টার

মরহুমা খালেদা জিয়ার পরিচারিকা ফাতেমার ভাতিজি আইসিইউতে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ও দীর্ঘদিনের সেবা প্রদানকারী ফাতেমা বেগমের ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) সীমা (৩২) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সীমাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে অসুস্থ সীমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

ঘটনার বিবরণ ও শারীরিক অবস্থা

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম দেন সীমা। তবে প্রসব-পরবর্তী জটিলতায় মা ও নবজাতক—উভয়ের অবস্থাই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে গতকাল বিকেলে তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আনা হয়।

রাজধানীতে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্যামলী শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে মা সীমার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে জীবনরক্ষাকারী সাপোর্টে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন ও নির্দেশনা

বিকেলে ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি আইসিইউতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সীমার শয্যাপাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং উপ-পরিচালক মো. আশরাফুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বরিশালে সন্তান প্রসবের পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার খবর পেয়েই আমরা দ্রুত তাকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করি। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই চিকিৎসাধীন। রোগীর অবস্থা জটিল হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালে দ্রুত একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা হাসপাতালগুলোকে বিশেষ বার্তা

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সারা দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকদের প্রতি আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে—যেকোনো রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে ঢাকায় স্থানান্তর করা সহজ হয়। সীমা ছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার নিজ এলাকার আরও কয়েকজন রোগীর খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। বর্তমানে সীমার চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। ফাতেমা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...