ঢাকার যানজট নিরসনে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তা তুলে ধরেন কমিটির সভাপতি ইছহাক দুলাল।
যানজট নিরসন কমিটির ১১ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—
খাল সংস্কার: ঢাকা শহরের চারদিকে যে খাল আছে সেগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস, ছোট ছোট লঞ্চ চালু করা।
ট্রাম রোড: ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা।
রিং রোড: মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা।
বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে স্থানান্তর করা, বাবুবাজার বাসস্ট্যান্ড বর্তমানে পরিচিত কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা। গাবতলী বাসস্ট্যান্ড গাবতলীতে থাকবে।
কমলাপুর থেকে বাইপাস বেসলাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ: কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ মানভট নিরসনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।
জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব: ঢাকা শহরকে দুইটি জোনে ভাগ করে জোন এক, কেরানীগঞ্জ জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্বাদন করা। জোন দুই, কাশিমপুর জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থাপন করা।
ঢাকার চারদিকে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা: ঢাকা শহর থেকে যানজট ও মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঢাকার নিকটবর্তী জেলা শহরগুলোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রস্তাব: ফুটপাত দখলমুক্ত করে হকার পুনর্বাসন করা। যেমন ফুটপাত জনগণের সম্পদ। আর হকারদের ফুটপাতে না বসিয়ে হলিডে মার্কেট চালু করা। ফুটপাতে জনগণ চলাফেরা করবে। ঢাকাকে সাতটি জোনে ভাগ করে যেদিন যে এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে, সেদিন সে স্থানে হলিডে মার্কেট ওই এলাকার উন্মুক্ত স্থানে করার ব্যবস্থা করা।
ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো: ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং কনস্টেবলদের এসআই এই ট্রেনিং করাবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া। গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। রাস্তায় কে কোন লাইনে গাড়ি চালাবে, এই বিষয়ে সচেতন করা।
নগর পরিবহন চালু করা: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন চালু করা। এক, নন-এসি গাড়ি; দুই, এসি গাড়ি। নন-এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না, এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ উন্নতি হবে।
জাতীয় স্বার্থে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা: গ্যাসকে সংযোজন করে উৎপাদন বাড়বে এবং সিএনজি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে যেন গ্যাস না দেওয়া হয়। গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে যেসব রপ্তানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে সে সব ফ্যাক্টরিগুলোতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাবে। দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে ইছহাক দুলাল বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০-২৫০ মিলিয়নে পৌঁছবে এবং এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ঘটবে শহরাঞ্চলে। এখনই যানজট হ্রাসে উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ঢাকায় ২০০৭-২০০৮ সালে গাড়ির গড় গতিবেগ ছিল ২১ কিলোমিটার, যা বর্তমানে ৪.৫ থেকে ৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।
তিনি জানান, সিপিডির এক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার যাত্রীদের প্রতি দুই ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা বছরে জনপ্রতি প্রায় ২৭৬ ঘণ্টার সমান। এই অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমরা ইতোপূর্বে ২০১০ সালে ও ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যালোচনামূলক গবেষণা করে নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি। যার কিছু ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে এবং বাকিগুলোর বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটির নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

