বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে চতুর্থ দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত এই রিমান্ড আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তৃতীয় দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঢাকার পল্টন থানায় বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় আসামিকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগীতা করেছেন। এই মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামি এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বিধায় এই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এরপর ফের ৩১ মার্চ আসামিকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ৬ এপ্রিল আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের পতনে এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এ সময় বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
একই সময়ে কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর তারা হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

