চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াত সহজ করতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) সেবা চালু করা হয়েছে। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতের অর্থায়নে নির্মিত এই উদ্ভাবনী যানটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক। রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক যানটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাদা মাহমুদুল হাসান।
জ্বালানি সংকটের কারণে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে চলাচলকারী কিছু ডিজেলচালিত বাসের ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রুয়েটের গবেষক দল কম খরচে পরিচালনাযোগ্য এবং জ্বালানি নির্ভরতা কম এমন একটি বৈদ্যুতিক যান তৈরির উদ্যোগ নেয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি গাড়ির উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। যেখানে দেশের অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যানগুলোর মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত, সেখানে রুয়েটের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়িটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
প্রাথমিকভাবে এই সেবা শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য চালু করা হয়েছে। হোস্টেল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর গাড়িটি চলাচল করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাহির থেকে গাড়ি ক্রয় না করে রুয়েটের গবেষণা খাত থেকেই এই যানটি তৈরি করা হয়েছে। এতে যেমন গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বাস্তব প্রয়োগভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।”
প্রকল্প প্রধান অধ্যাপক ড. শাহজাদা মাহমুদুল হাসান বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আউটকাম বেসড এডুকেশন (OBE)-এর লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার একটি টেকসই সমাধান দেখাতে পেরেছি।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন পাওয়া গেলে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী নির্বিশেষে সবার জন্য আধুনিক ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুয়েটের এই উদ্যোগ শুধু যাতায়াত সংকট নিরসনই করবে না, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার ও উদ্ভাবনী গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

