প্রেক্ষাগৃহকে মার্কেটের সাথে বন্ধ না করার দাবি প্রযোজক-নির্মাতাদের

বিনোদন রিপোর্টার

প্রেক্ষাগৃহকে মার্কেটের সাথে বন্ধ না করার দাবি প্রযোজক-নির্মাতাদের

ঈদের সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। সিনেমা হলের জন্য সন্ধ্যা এবং রাত হচ্ছে ‘প্রাইম টাইম’। কিন্তু সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ৭টার পর মার্কেট বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কেটের অভ্যন্তরে থাকা সিনেমা হলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্রশিল্প অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে উদ্বেগ করে বিবৃতি দিয়েছেন বেশ ক’জন পরিচালক-প্রযোজক। চলচ্চিত্রের স্বার্থে প্রেক্ষাগৃহকে বরাবরের মতো মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমার আওতামুক্ত বা বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

রোববার, ৫ এপ্রিল, সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পক্ষে শাহরিয়ার শাকিল, তানিম নূর,⁠ রেদওয়ান রনি, ⁠সাকিব আর খান, রায়হান রাফী, ⁠শাহরিন আক্তার সুমি, ⁠শিরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ৭টার পর মার্কেট বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত এ পদক্ষেপের প্রতি আমরা সর্বাত্মক শ্রদ্ধাশীল। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণে মার্কেটের অভ্যন্তরে থাকা সিনেমা হলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত ঈদের সিনেমাগুলো এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্প অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’

এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে ৩টি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

১. শো-টাইম ও দর্শকের চাহিদা

ঈদের সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। সিনেমা হলের জন্য সন্ধ্যা এবং রাত হচ্ছে 'প্রাইম টাইম'। কর্মব্যস্ততা শেষে অধিকাংশ দর্শক এই সময়েই সপরিবারে সিনেমা দেখতে আসেন। সন্ধ্যা ৭টায় হল বন্ধ করে দিলে এই বিশালসংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।

২. বিগত দিনের নিয়ম ও প্রেক্ষাপট

অতীতে আমরা দেখেছি, মার্কেট বা বিপণিবিতান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা হলগুলো সেই নিয়মের আওতামুক্ত থাকতো। সাধারণত রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলগুলো খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হতো। মার্কেটের নিরাপত্তা বজায় রেখেও সিনেমা হলের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব, যা আগেও সফলভাবে হয়েছে।

৩. চলচ্চিত্র শিল্পের অর্থনৈতিক ঝুঁকি

একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে। উৎসবের এই কয়েকদিনেই সেই বিনিয়োগ তুলে আনার প্রধান সময়। পিক-আওয়ারে হল বন্ধ থাকলে লগ্নীকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য খুবই খারাপ হবে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পক্ষে আবেদন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিনেমা হলকে মার্কেটের সাধারণ দোকানের আওতামুক্ত রেখে পূর্বের মতো মার্কেট বন্ধ থাকলেও সিনেমা হল চালু রাখার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের বাধিত করবেন।’

সবশেষে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, ‘চলচ্চিত্র সবচেয়ে বড় বিনোদন মাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্প। বিগত কয়েক বছর ধরে দর্শক-শিল্পী-কলাকূশলীদের সহযোগিতায় শিল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দর্শকদের ঈদের আনন্দ পূর্ণতা দিতে এবং প্রযোজকদের বিনিয়োগ ফিরে পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সহমর্মিতামূলক পদক্ষেপ কামনা করছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন