প্যাকেটজাত পণ্যের সম্মুখভাগে থাকতে হবে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

স্টাফ রিপোর্টার

প্যাকেটজাত পণ্যের সম্মুখভাগে থাকতে হবে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। তবে প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তাই বুঝতে পারেন না, ফলে তারা খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান না। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের সম্মুখভাগে স্পষ্ট সতর্কবার্তা (এফওপিএল) চালু হলে ভোক্তা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচনের সুযোগ পাবে। বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশ এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টিতে এফওপিএল বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবিটরের সহযোগিতায় এবং (প্রগতির জন্য জ্ঞান) প্রজ্ঞা আয়োজিত এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং:প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবিটরের বাংলাদেশ প্রধান মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, বিডিনিউজ২৪-এর ক্রাইম চিফ লিটন হায়দার, প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

কর্মশালায় জানানো হয়, ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ-লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা হলো একটি খাদ্য-লেবেলিং ব্যবস্থা, যেখানে অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের প্যাকেট বা মোড়কের সামনের অংশে সহজ ভাষা, চিহ্ন বা সতর্কবার্তার মাধ্যমে পণ্যের পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো পণ্যে চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ট্রান্স-ফ্যাটের মাত্রা বেশি কি না তা ভোক্তাকে দ্রুত ও সহজে বুঝতে এবং তুলনা করতে সহায়তা করা। সাধারণভাবে প্যাকেটজাত খাবারে পুষ্টি তথ্য প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষর ও জটিল সংখ্যায় দেওয়া থাকে। সব ভোক্তার পক্ষে এগুলো পড়ে বোঝা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। এফওপিএল এই সীমাবদ্ধতা সহজে দূর করতে পারে। এটি ভোক্তার পছন্দ সীমিত করে না; বরং স্বচ্ছ তথ্য দিয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে। এ জন্য ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ-লেবেলিং (এফওপিএল) অবশ্যই একটি শক্তিশালী নিউট্রিয়েন্ট প্রোফাইল মডেলের (এনপিএম) ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা উচিত বলে মত দেন বক্তারা।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, ইতিমধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা-২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া অংশিজনের মতামতও চাওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৬৪টি দেশি-বিদেশি সংস্থা তাদের মতামত দিয়েছে এ ব্যাপারে। এখন তাদের মতামত যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় মতামতগুলো প্রবিধানে সন্নিবেশ করা হবে। চলতি মাসেই এর ড্রাফট চূড়ান্ত করা হবে এবং রিভিউয়ের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত আইনের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় আইন চূড়ান্ত করে দিলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারি করবে। প্রজ্ঞাপন জারির ৬ মাস পর এই নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর আওতায় এই বিধিমালা কার্যকর হবে। অথাৎ এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিড়ি-সিগারেটের মতো তামাকজাত পণ্যের মোড়কের গায়ে যেভাবে স্বাস্থ্য সতর্কতা লেখা থাকে, সেভাবে প্যাকেটজাত পণ্যের গায়েও স্বাস্থ্য সতর্কতা লেখা বাধ্যতা মূলক হবে।

কর্মশালা লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অতি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। ফলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৩.৯ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে এবং ২৩.৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ মারা যায় বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ এবং যার ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম), চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

এলআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন