কাঠগড়া থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে পালালেন হত্যা মামলার আসামি

কাঠগড়া থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে পালালেন হত্যা মামলার আসামি

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৭ নম্বর এজলাস থেকে কৌশলে হাতকড়া খুলে আবার পালিয়ে গেছেন জিসান হত্যা মামলার আসামি মো. শরিফুল ইসলাম (২৮)। এর আগে ২০২৫ সালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে গিয়েছিলেন একই আসামি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের এজলাসে এই ঘটনা ঘটে।

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আজ একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। তার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। তবে আসামি কৌশলে পালিয়ে গেছেন। হয়তো ওই সময়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা একটু অন্যমনস্ক ছিলেন। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তিনি পালিয়ে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে এই আসামি ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত থেকে একবার পালিয়ে গেছেন। আজ কোতোয়ালি থানার সেই মামলায় হাজিরা দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। ঘটনাটি আদালতের ভেতরে, বিচারক এজলাসে থাকা অবস্থায় ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে এবং তদন্ত করা হবে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

পালিয়ে যাওয়া আসামি সম্পর্কে পুলিশের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নম্বর ১৭(৬)/২৫, ধারা-২২৪ পেনাল কোডের আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। সিএমএম আদালতের ডিউটি বণ্টন অনুযায়ী কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম আসামিকে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সিএমএম ৭ নম্বর আদালতে হাজির করেন। আসামিকে হাতকড়া পরিয়ে কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে আটকানো হয়।

আরও বলা হয়, পরে কনস্টেবল আদালতের বারান্দায় অবস্থান করলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামি আদালত থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে এজলাসের কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে হাতকড়া ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। আসামিকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে কৌশলে পালিয়ে যান মো. শরিফুল ইসলাম। ঘটনার দিনই হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর একই বছরের ১ অক্টোবর ভোরে ফেনী রেলস্টেশন এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।

আসামি শরিফুল দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহমেদের ছেলে। রাজধানীর খিলগাঁও থানার জিসান হোসেন (১৪) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে ওই মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন