যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু হয়, কোন সংসদে ছিল কতটি

আমার দেশ অনলাইন

যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু হয়, কোন সংসদে ছিল কতটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের ভোট শেষ হওয়ার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। সংসদের ৩০০ আসনে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় সংরক্ষিত নারী এমপিদের ভাগ্য। বর্তমানে সংসদে দলগুলোর অবস্থানের আনুপাতিক হারে এই ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সংসদে নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়।

১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং ৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। তবে ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না।

৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই সংসদেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হলে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনও ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে সরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়।

ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও এই নির্বাচন পরোক্ষভাবে হওয়ায় নারী ক্ষমতায়ণ কতখানি নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসলেই প্রকৃতভাবে নারীর ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব। না হলে এই নারী আসন শুধু অলঙ্কারিকভাবেই ক্ষমতায়িত হবে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংরক্ষিত আসন এখনো অলংকারিক। তারা ভোটারদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করেন না। দলের মর্জি মাফিক নারীদের জিতিয়ে আনা হয়, যা নারীদের জন্যও সম্মানজনক নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন