সেমিনারে বক্তারা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা প্রতারণার শামিল

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা প্রতারণার শামিল

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, একই তফশিলের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। রাষ্ট্রগঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো জনগণের অভিপ্রায়, যা জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই অভিপ্রায়কে উপেক্ষা করছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি এন্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

এসময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ আইন আকারে প্রণয়ন ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিতে আওয়ামী লীগের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার নিজেদের মতো করে আইন পাস করছে এবং ঘোষিত ৩১ দফাও অনুসরণ করছে না। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গণভোটে পাস হওয়া সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই গণভোটের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। তিনি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও কার্যকর দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার প্রস্তাবগুলো গণভোটে জনগণের সম্মতি পেয়েছে। ফলে এগুলো বাস্তবায়নে সরকার নৈতিক ও আইনগতভাবে বাধ্য।

তিনি বলেন, সংসদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়, কারণ সংসদে পাস হওয়া আইন সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও সিআইপিজির চেয়ারম্যান ড. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও সাবেক সচিব মু. আবদুল কাইয়ূম এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিনিয়র সচিব শফি উল্লাহ, সাবেক নৌবাহিনীর কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন