ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’। চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ে দেশের নদী ও সাগরে জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সোমবার সচিবালয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।
মৎস্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো। এই ইলিশ ধরা বন্ধ করাটা একটু আগে-পিছে ছিল।
তিনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ঠিক যেই সময়টা বন্ধ করলে মাছ রক্ষা পাবে ওই সময়টাকে আমরা বেছে নিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ইলিশ মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সফল বাস্তবায়ন অন্যতম। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে সাথে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এগিয়ে যাবে।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আগামী ৭ হতে ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ বছরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’। দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় এবং মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উপযোগী কর্মসূচি পালিত হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ চাঁদপুর সদর এ অনুষ্ঠিত হবে।
জ্বালানি সংকটে সমুদ্রে ট্রলার যেতে পারছে না এ নিয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি বিষয়টি বৈশ্বিক সমস্যা। তেলের আমাদের মেজর সমস্যা নয়। আর যেখানে যা প্রয়োজন তা মেটানো হচ্ছে।
সপ্তাহটি পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিই মূল উদ্দেশ্য। তাই বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশেও একই সময়ে কাজ করছে।
কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ আসছে। ইলিশ কী এবারো অসাধারণ লোকদের খাবার হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত কীভাবে দাম সমন্বয় করা যায় তা বের করতে মৎস্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।
ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার ইলিশ রপ্তানি করে না। ভারতে যখন পূজা হয় তখন সৌজন্যমূলক কিছু ইলিশ পাঠানো হয়। আর এটি নির্ধারণ করবে মূলত প্রধানমন্ত্রী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

