পরীক্ষা নিয়ে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

পরীক্ষা নিয়ে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভীত না হওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, সামনে এসএসসি পরীক্ষা, এটা ভালোভাবে যেন হয়, কোনো ভীতি যেন প্রদর্শন না করা হয়। আমি দেখছি, ফেসবুকে তারা নিজেরা নিজেরাই ভয় পাচ্ছে। ভীত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সুন্দর পরীক্ষা হবে। আমরা মনিটরিং করবো।

বিজ্ঞাপন

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফের’ যৌথ আয়োজনে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল কোর্স যুক্ত করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিষয়ে তিনদিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যে নকলকে মিন বা বুঝাই, সেই নকল আর হয় না। এখন কিছুটা হয় ডিজিটাল নকল। এই ডিজিটাল নকল বন্ধে আইন করা হবে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র নিয়মিত ফাঁস হতো। এবার আমরা এসেছি, এ প্রশ্নপত্র বিগত সরকার করে দিয়েছিল। আমরা করতে পারিনি, আমরা তো মাত্র সরকারে এসেছি। প্রশ্নপত্র যেন ফাঁস না হয়, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগামী এইচএসএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে একক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে।

সিসি ক্যামেরা নিয়ে অনেকে ভয় পাচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আমার শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাসে পড়াচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবো। আমি আমার সুবিধামতো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখবো, শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন কিনা। এটা নিয়ে এত ভয়ের কি আছে? এটা নিয়ে ট্রল করছে।

তিনি আরও বলেন, এখন কি আগের মত হেলিকপ্টার নিয়ে ছোটার দিন আছে? এখন কোথায় কি হচ্ছে রুমে বসে দেখবো।

দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২২৮৪টি। যাতে অধ্যয়ন করছে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পুরনো ও গতানুগতিক সিলেবাসে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পর এদের বেশিরভাগই বেকার থাকে। কারণ কারিগরী বিষয় ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব।

এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত দক্ষ করে গড়ে তুলতে কারিকুলাম আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি টেকনিক্যাল কোর্স যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে বিএনএফকিউ-এর নীতিমালা অনুসরণ করে ‘আউটকাম বেজড’ কারিকুলাম রিভিউ ও আপডেট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ২য় বর্ষে অ্যাডভান্সড আইসিটি কোর্স এবং ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

যুগোপযোগী এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

এই কারিকুলাম উন্নয়ন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক করতে তিনদিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি।

এ সময় তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সংকট ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আশার কথা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি বিস্তৃত ও সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম সংস্কারের যুগান্তকারী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তিন দিনের এই কর্মশালায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসে একটি সময়ের প্রয়োজনভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী হওয়ার সুযোগ বাড়াবে এবং তরুণ-তরুণীদের মাঝে উদ্ভাবনী চিন্তা জাগাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার পর শিক্ষায় যথাযথ বিনিয়োগ না করায় দেশ এখনো সমসাময়িক অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাই বিলম্ব হলেও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার সময় এখনই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গৃহীত নানা ধরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গত পৌনে দুই বছরে প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...