ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন যুবদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন যুবদল নেতা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিমানবন্দর থানার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বিমানবন্দর থানা শাখার নেতা রাসেল সরকার এই অভিযোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (ডাক গ্রহণ ও বিতরণ শাখা) চিঠিটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে রাসেল সরকার নিজেকে শাখা যুবদলের ‘কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্ত এখন রাজধানীর বৃহত্তর উত্তরার ত্রাসে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে তাঁর নাম জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে শান্ত একের পর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর আরও বেপরোয়া হয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শুধু দিনে না রাতেও দক্ষিণখান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে চাঁদা দিতে হয় আল আমিন শান্তকে।

আবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিমানবন্দরের ডিএল তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুট করায় গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় শান্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সরকারি মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেলসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে মারধর করায় দক্ষিণখান থানায় ৪ এপ্রিল আরেকটি মামলা হয়েছে।

একের পর এক সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংগঠনের একটি মহলের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন শান্ত। পরপর দুই থানায় মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করেনি ছাত্রদল। জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি তাকে। এমনকি কোনও কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছেন। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর খুঁটির জোর কোথায়? কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে?

আবেদনে শান্তকে শেল্টার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন যুবদল নেতা। এতে বলা হয়, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর অপকর্মের পেছনে শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করছে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার আস্কারা পেয়েই এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন শান্ত। যখনই আল আমিন হোসেন শান্ত অন্যায় করে তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শান্তের অন্তত দুটি ঘটনায় ছাত্রদল এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে দাবি করে আবেদনপত্রে বলা হয়, বিমানবন্দরের তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে টাকা লুটের ঘটনায় যদি ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে তার হাতে যুবদল নেতাদের মার খেতে হতো না, নিজ দলের কর্মীদের রক্তাক্ত হতে না।

এর আগে রাসেল সরকারসহ যুবদলের তিন নেতাকর্মীর মাথা ফাটানোর ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া অভিযোগপত্রে রাসেল বলেন, দক্ষিণখান থানাধীন হলান এলাকায় রাস্তার সুয়ারেজ লাইনের (ড্রেন) উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য মাটি খোঁড়া হয়। খনন করা মাটি রাস্তার পাশে ঢিবি করে রাখা ছিল। এসব সরকারি মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিল আল আমিন শান্ত। পাশের রাস্তায় গর্ত থাকায় গত ৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তকে কিছু মাটি ওই রাস্তায় দিতে বলি। কিন্তু তিনি রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শান্ত ও তাঁর লোকজন বাঁশের লাঠিসোঁটা, ইট, ধারালো ছুরি, ধারালো চাপাতি, লোহার রড নিয়ে আমার ওপর হামলা করে যার একটি ভিডিও ফুটেজও আমরা পরবর্তীতে সংগ্রহ করি। শান্ত ও তাঁর লোকজনের হামলায় আমি গুরুতর জখম হই।

রাসেল জানান, আমাকে বাঁচাতে ভাতিজা মো. সাব্বির হোসেন রাজু ও আমার বন্ধু আবরারুল হক জুয়েল এগিয়ে আসে। শান্তের লোকজন ভাতিজা রাজুকে জাপটে ধরে চাপাতি দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে রাজু চিৎকার করে। তার চিৎকার শুনে এলাকার ছোট ভাই সাব্বির ইসলাম কাউসার, রবিউল, রানাসহ কয়েকজন চলে আসে। তাদেরকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজ উপস্থিত হলে শান্ত ও তার লোকজন পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার সেক্টর-২ এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনে একটি মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে স্টেশনের কর্মচারী মো. রাকিবকে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে স্টেশনের আরেক কর্মচারী ইলিয়াসকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা আহত হন।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে বাদী আব্দুল বাসারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শান্তের একের পর অপকর্মের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সঠিক বিচার দাবি করেন বিমানবন্দর থানার যুবদল নেতা রাসেল সরকার। তিনি এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি রক্ষায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) মর্জি কামনা করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...