ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনী বিল পাস

বিল নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার

বিল নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের সুযোগ সৃষ্টি করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিজ্ঞাপন

বিল পাসের আগে বিরোধী দলসহ সবাইকে উদ্দেশ্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি এমন একটি বিল, যার মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের জন্য বলছি, এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।

গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে গুমের বিচারে আমরা যে বদ্ধপরিকর, সেটারই একটি প্রতিফলন এই আইনের মধ্যে নিয়ে এসেছি।’

বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘বিলটি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছেন, তা আমার কাছে অনাহূত এবং এটার (বিল) সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করি না। এই অংশটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে, তখন আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করব। এখানে এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

এ সময় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, এ সম্পর্কে তো কেউ আপত্তিও দেয়নি। আপনি সর্বশেষ যে কথাগুলো বললেন, কোনো আপত্তি তো সংসদে কারও কাছ থেকে শুনিনি।’

জবাবে আইনমন্ত্রী মাইক নিয়ে বলেন, ‘বাইরে গুমের বিচারের ব্যাপারে এই সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, সে কারণে বিলটি উপস্থাপনের আগে আপনার সামনে ক্লিয়ার করলাম যে, আমরা গুমের ব্যাপারে কতটা কমিটেড। এই সরকার গুমের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্য কতটা কমিটেড, সেটাই সংসদ ও দেশবাসীকে অবহিত করলাম।’

এ সময় স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন সংসদে নেই। এখানে আইন অনুযায়ী, বিধি অনুযায়ী যেটুকু উত্থাপন করা হবে, সে ব্যাপারেই আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করব।’ এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কথা বলতে চাইলে স্পিকার বলেন, এ ব্যাপারে আর বক্তব্য শোনার প্রয়োজন নেই।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি০৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিসসমূহ নিষ্পত্তি, গৃহীত নোটিসসমূহের ওপর আলোচনা, আইন প্রণয়ন কার্যাবলি এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন