আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

আমার দেশ অনলাইন

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান একটি রূপক গল্পের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘এক বিচারক হত্যা মামলার রায় দিতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পেছন থেকে দড়ি টানার সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।’ এই গল্পের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারি সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি তা বোঝে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থান কেবল ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের নয়। শহীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমিক। তারা কোটা বৈষম্যের চেয়েও বড় লক্ষ্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন।’ তিনি বর্তমান সংসদকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ অভিহিত করে সতর্ক করেন যে, জুলাইয়ের স্পিরিট বা আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না।

সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় অর্ধেক হালাল—এই নীতি চলবে না। সংসদে আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আমরা জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করব না।’ তিনি আরো জানান, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদের কোনো অবৈধ সুবিধা নেবে না এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে জড়াবে না।

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আন্দোলন শুরু করতে হবে এমন নয়, আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। যেদিন সংস্কার পরিষদের সভার নোটিশ গায়ের জোরে নাকচ করা হলো, সেদিন আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। এখন জনগণের রায় নিয়ে আবার জনগণের পার্লামেন্ট অর্থাৎ রাজপথে আমরা চলে যাচ্ছি।’ তিনি দেশবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়; বরং ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো এবং শহীদদের রক্তের ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদের কারো গোলাম বানাতে চাই না এবং কোনো পারিবারিক রাজতন্ত্র বা ফ্যাসিজম বরদাস্ত করব না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন