যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। তবে তা হামলার মাধ্যমে নয় বরং নিয়ন্ত্রণ এবং চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে।
এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় আরোপ করেছে ইরান । দেশটির ভাষ্যমতে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিশোধ হিসেবে জাহাজ চলাচলের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করেছে তারা।
শনিবার প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টাকালে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ গোলাগুলির শিকার হয়েছে।
ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইআরজিসি পরিচালিত ছোট, দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযানগুলো। উপকূল বরাবর সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থাকা এই নৌকাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ইরানের নৌবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এগুলো দ্রুত প্রস্তুত হতে, হামলা চালাতে এবং নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের কৌশলের জন্য নির্মিত হওয়ায় এগুলোকে অনুসরণ করা এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কঠিন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। যদিও সম্প্রতি আটটি ট্যাংকারের একটি বহর এটি অতিক্রম করেছে, তবে ইরান দ্রুতই এর ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তাদের মাইন পাতার সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। তবুও, এই ছোট নৌকাগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে একটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে-প্রকাশ্য সংঘাত থেকে নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের দিকে পরিচালিত হচ্ছে, যা বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল একটি জলপথে কেন্দ্রীভূত।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কি ফের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে
ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ বাড়ানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের