মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘মঙ্গলবার মধ্যরাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করা সম্ভব। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অচল হয়ে যাবে, আগুনে পুড়বে ও বিস্ফোরিত হবে।’ তবে তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি চায় না, যদিও প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়েই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হতে পারে কি না—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ট্রাম্প। এক পর্যায়ে তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিককে তিরস্কারও করেন।
তিনি আরও জানান, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত— হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেওয়া— মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, ‘ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারের বেশি এবং ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১১২ ডলারে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক সময়ে ভারত, রাশিয়, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যাদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

