মোদির বিজেপির জন্য পরীক্ষা

আসাম ও কেরালায় বিধানসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত, ফলাফল ৪ মে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আসাম ও কেরালায় বিধানসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত, ফলাফল ৪ মে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে শুরু হয়েছে প্রাদেশিত বিধানসভা নির্বাচন। বৃহস্পতিবার প্রথম দিন আসাম ও কেরালা রাজ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ভোট নেওয়া হয় কেন্দ্রশাসিত ‍পুদুচেরিতেও। এসব অঞ্চলের কয়েক লাখ ভোটার ভোট দেন।

এ মাসের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে মে মাসের ৪ তারিখে ।

বিজ্ঞাপন

দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই পাঁচ অঞ্চলে ভোটার ১৭৪ মিলিয়ন, যা দেশের মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মোট আসন ২৯৬টি। আসামে ১২৬, কেরালায় ১৪০ এবং পুদুচেরিতে ৩০টি।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার আসাম ও কেরালা রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন ভোটাররা। এর মাধ্যমে এ মাসে চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সূচনা হলো। যদিও মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এই রাজ্য নির্বাচনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, তার পরও ক্ষমতাসীনদের প্রতি ভোটারদের মনোভাব কেমন, তা যাচাইয়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

আসাম বিজেপির নিয়ন্ত্রণে এবং পুদুচেরিতে ক্ষমতাসীন জোটের অংশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কখনো সরকার গঠন করেনি তারা। তাই এই তিন রাজ্যে বিজেপিকে মূলত প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক দলগুলোর মোকাবিলা করতে হবে।

তবে বিরোধী দলগুলোর জন্য এই নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিজেপির আধিপত্যের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ হিসেবে একে দেখছে তারা।

ভারতীয় থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাহুল ভার্মা বিবিসিকে বলেন, এটি বিজেপির জন্য এক বড় পরীক্ষা, যারা বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে। তবে তার মতে, এই নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে কংগ্রেসের জন্য আরো বড় এক চ্যালেঞ্জ, যাদের নির্বাচনি শক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে।

পাঁচটি অঞ্চলজুড়ে ৮২৪টি বিধানসভা আসনে অনুষ্ঠিতব্য এই গ্রীষ্মকালীন নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভুয়া নাম বাদ দিয়ে বৈধ নাম অন্তর্ভুক্ত করা।

কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই এসআইআরের মাধ্যমে লাখ লাখ ভোটার, বিশেষ করে মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি ও কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এপ্রিলে ভোট হতে চলা প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি রয়েছে। আসামে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অভিবাসন, পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ দ্বারা রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবিত হয়েছে। বিজেপি এক দশক ধরে রাজ্য শাসন করছে, তাই এই নির্বাচন তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারার এক বড় পরীক্ষা।

সাক্ষরতা, স্বাস্থ্যসেবা ও গড় আয়ুর ক্ষেত্রে কেরালা ভারতের শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি এবং এখানকার প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জনকল্যাণ ও সুশাসন।

ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে আসছে। এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বাম জোট সরকারবিরোধী মনোভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন