লেবাননের সিডন, নাবাতিহসহ দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রাতভর নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এমনকি একটি গাড়িতে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। রাজধানী বৈরুতের আকাশে রাতভর চক্কর দিয়েছে ইসরাইলি নজরদারি ড্রোন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি নিয়ে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নতুন করে এলাকাটি খালি করার (ফোর্সড ইভাকুয়েশন) নির্দেশ দিয়েছে। এবারের নির্দেশনায় ‘জনাহ’ এলাকাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে রাজধানীর অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ঝুঁকিতে দুই হাসপাতাল ও ৪৫০ রোগী
ইসরাইলি এই উচ্ছেদ নির্দেশের পর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, জনাহ এলাকায় দুটি বড় হাসপাতাল রয়েছে, যা বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।
হাসপাতাল দুটিতে বর্তমানে প্রায় ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। ডব্লিউএইচওর মতে, লেবাননের অন্যান্য হাসপাতাল ইতোমধ্যেই রোগীতে ঠাসা থাকায় এই রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা কার্যত অসম্ভব।
কেন এই উপচে পড়া ভিড়?
গত বুধবার লেবাননজুড়ে ইসরাইল যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল, তাতে এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। সেই আহতদের চাপ সামলাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে দেশটির চিকিৎসাব্যবস্থা। একদিকে নতুন হামলা চলছে, অন্যদিকে বুধবারের হামলায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং গণনা করার কাজও এখনো শেষ হয়নি।
সংকটে বাস্তুচ্যুত মানুষ
যাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের বড় অংশই আগে একবার হামলার মুখে ঘরবাড়ি হারিয়ে জনাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। এখন দ্বিতীয়বারের মতো তাদের আশ্রয়স্থল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, যা দেশটিতে মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।
উল্লেখ্য, ইসরাইল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তবে বেসামরিক অবকাঠামো ও হাসপাতালের কাছাকাছি এই উচ্ছেদ নির্দেশ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

