মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে হরমুজ প্রণালীকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছেন, যা ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই আসলো।
ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিংর সঙ্গে গোপন আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং চীন ইরানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তিনি তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আমি হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছি—চীন এতে খুব খুশি। আমি এটা তাদের জন্যও করছি, বিশ্বের জন্যও।”
তিনি আরও বলেন, আসন্ন বৈঠকে শি তাকে ‘উষ্ণ আলিঙ্গন’ জানাবেন এবং দুই দেশ ‘খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করছে’।
এর আগে, ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে ট্রাম্প প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিলেন। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ, যেখানে দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে এবং তেলবাহী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল আটকে দেয়।
এদিকে, বেইজিং ট্রাম্পের অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করে। চীন ও রাশিয়া যুদ্ধ চলাকালে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কূটনৈতিকভাবে, মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য শুল্ক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হবে।
যদিও ট্রাম্প প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে নাকি চলমান শান্তি আলোচনার অংশ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান আসতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো ভেস্তে গেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

