জ্বালানি সরবরাহে পেট্রোল পাম্পে শৃঙ্খলা ফিরাতে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। সফলতা পাচ্ছেন না কৃষক ও যানবাহনের চালকেরা । এছাড়া নানা অনিয়মসহ মারামারির ঘটনা ঘটছে পেট্রোল পাম্পে।
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, ডিজেল সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে। তেলের অভাবে পর্যটকবাহী ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় পুরো ভ্রমণ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজেল সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়েও কোনো ট্রলার বা লঞ্চ ছেড়ে যেতে পারছে না। এতে করে আগত পর্যটকদের বড় একটি অংশ বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে, আর যারা এসেছেন তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় ট্রলার মালিক আব্দুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিজেল না থাকায় আমরা ট্রলার চালাতে পারছি না। এ বিষয়ে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ‘ডিজেল সংকটের কারণে পর্যটন কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড গরম আর তীব্র রোদের মধ্যেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় কমছে না। প্রয়োজনের তাগিদে কিংবা ভবিষ্যতের আশায় জ্বালানি সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন পাম্পে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই উপজেলার পূর্ববাজার মেসার্স ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন নামক একটি পাম্পে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন, পেট্রোল কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নে এক বসতবাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকিতে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৭৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জরিমানাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান। অভিযানে বসির সারেং ওরফে বসু সেরাংয়ের বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকিতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান,
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। সেচপাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হাজারো কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যা ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সেচের পানির অভাবে বিস্তীর্ণ জমিতে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। জমিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কেউ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড পদ্ধতি উপেক্ষা করে তেল বিক্রির জেরে তেলপাম্পে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এক কৃষক মারধরের শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন।
বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বিক্রির কথা থাকলেও দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে ভোক্তা, তেলপাম্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দশমী গ্রামের কৃষক নস্কর আলী ডিজেল সংগ্রহ করতে গেলে তেলপাম্পের কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কর্মচারী জাহিদ হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ফুয়েল মেশিনের নল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে নস্কর আলীর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ঘটনার পরপরই দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের চাপের মুখে অভিযুক্ত কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তিন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ধূরুং বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব উল আলম। তিনি জানান, ধূরুং বাজারে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে তদারকি করতে মূল্য তালিকা না থাকায় ধুরুং স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা, কুতুব আউলিয়া মেশিনারীকে তিন হাজার টাকা ও রমজান আলীকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তেঁতুলিয়ায় (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন বাবুয়ানিজোত এলাকায় মামুনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ির একটি কক্ষ থেকে অবৈধ মজুত করা ৩৩৫ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তিনি অবৈধভাবে তেল মজুতের বিষয়টি স্বীকার করেন। মামুন বাবুয়ানিজোত এলাকার রুহুল আমিন আকন্দের ছেলে। গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরুর নেতৃত্বে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এ অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চৈতন্যা এলাকায় ডিজেলভর্তি লরি থেকে অবৈধভাবে তেল বিক্রির সময় ১৮ হাজার লিটার তেলভর্তি গাড়িসহ একজনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৮ হাজার লিটার তেলভর্তি লরিসহ ড্রাইভারকে আটক করা হয়।
আটক ড্রাইভার অলিউল্লাহ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকার আলী আকবরের ছেলে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

