ঋণের বোঝা মাথায়, দুশ্চিন্তায় শহীদ মনিরের পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি, (তজুমদ্দিন) ভোলা

ঋণের বোঝা মাথায়, দুশ্চিন্তায় শহীদ মনিরের পরিবার

দেশপ্রেমের টানে নিজের ঝুট কাপড়ের ব্যবসা বন্ধ রেখে মনির হোসেন ছুটে গেছেন ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। তবে জীবন নিয়ে তিনি আর ফিরে আসতে পারেননি। পুলিশের বুলেট কেড়ে নিয়েছে প্রাণ। অন্য শহীদদের মতো তার আত্মত্যাগও দেশকে এনে দিয়েছে নতুন স্বাধীনতা।

বিজ্ঞাপন

মনিরকে হারানোর কান্না এখনো থামেনি তার পরিবারের। শহীদ মনিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম ঋণের বোঝা মাথায় করে ছোট্ট দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একমাত্র শহীদ মো. মনির হোসেন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শম্ভুপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরফত আলী দফাদার বাড়ির আবদুল মান্নান ও সাজেদা বেগমের ছেলে। জীবিকার টানে বড় ছেলে মনিরকে সঙ্গে নিয়ে আবদুল মান্নান পাড়ি জমান ঢাকায়। শুরু করেন ঝুট কাপড়ের ব্যবসা।

আবদুল মান্নান জানান, একসময় মনির ইসলামপুর, সুরিটোলায় ব্যবসা শুরু করে। থাকতো বংশাল এলাকায়। ৫ আগস্ট ব্যবসার কাজে না গিয়ে কয়েকজন মিলে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। দুপুরে শাহবাগে পুলিশের গুলিতে আহত হলে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।রাত দুইটায় পাশের বেডের লোকজন মোবাইলে মনিরের মৃত্যুর সংবাদ জানান।

স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ঢাকার শাহবাগে পুলিশের গুলি মনিরের পেটে লাগে। ওই দিন রাত তিনটায় তার মৃত্যুর সংবাদ পাই। প্রথমে ভয়ে আত্মীয়স্বজনরা লাশ আনতে যাননি। পরে ছাত্রদের সহযোগিতায় ৬ আগস্ট মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়।

এখন পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের পক্ষ থেকে মনিরের পরিবারকে পাঁচ লাখ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দুই লাখ, বিএনপির পক্ষ থেকে পঞ্চাশ হাজার, শিল্পকলা একাডেমি থেকে দশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা থেকে মনিরের বাবাকে এক লাখ ত্রিশ হাজার দেয়া হয়। বাকি টাকা স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য রাখা হয়। এই টাকায় কিছু ঋণও শোধ করা হয়।

রোজিনা বেগম আরো বলেন, এনজিও ব্র্যাক থেকে এক লাখ টাকা এবং এলাকার লোকজনের কাছেও অনেক ঋণ করেছেন মনির। ব্র্যাক এখনো ৬০ হাজার টাকা পাবে। বাকি টাকার জন্য ব্র্যাক থেকে অনেক চাপ আসছে।

একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে দুই শিশু জুনা (৫) ও আবিরের (১০) ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রোজিনার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দশ হাজার টাকা পেয়েছেন জানিয়ে রোজিনা বলেন, সরকার যেন তার পরিবারের পাশে থাকে।

তজুমদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসার শুভ দেবনাথ আরো সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন