সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা শহীদ শাহজাহানের স্ত্রী

উপজেলা প্রতিনিধি, দৌলতখান (ভোলা)

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা শহীদ শাহজাহানের স্ত্রী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শাহজাহানের স্ত্রী আজ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কামরাঙ্গীর চরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন শাহজাহান। তিনি নিউমার্কেট এলাকায় পাপোশ বিক্রি করতেন।

গত ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন শাহজাহান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে স্ত্রী ফাতিহা ও সদ্যোজাত সন্তান ওমর ফারুককে নিয়ে আজ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের ওপর নেমে আসা দুর্ভোগ

শাহজাহানের মৃত্যুর পর তাঁর চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতিহাকে শ্বশুর-শাশুড়ি নির্দয়ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কোনো উপায় না দেখে ফাতিহা তাঁর বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন। তার বাবার বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে। শাহজাহান শহীদ হওয়ার পাঁচ মাস পর গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁদের পুত্রসন্তান ওমর ফারুকের জন্ম হয়। বর্তমানে ওমর ফারুকের বয়স সাত মাস এবং শিশুটি অসুস্থ। এই অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা ও খাবার জোগানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই ফাতিহার।

সীমিত সহযোগিতা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান শাহজাহানের নবজাতক পুত্রকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। বর্তমানে, ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে মাঝেমধ্যে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দৌলতখান উপজেলা প্রশাসন বা অন্য কোনো স্থানীয় রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠন থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য তিনি পাননি।

ফাতিহার নিজের কোনো ভিটেমাটি বা ঘর নেই, যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে থাকতে পারেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাঁর নির্ঘুম রাত কাটছে। স্থায়ী আর্থিক সহযোগিতার অভাবে তাঁদের জীবন এখন আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ক্ষোভ ও দৃঢ়তা

ফাতিহা তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব, কী খাব, কোথায় থাকব, কেউ খোঁজ নেয় না।” তিনি মনে করেন, তাঁর স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন এবং তিনিও দেশের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত। গত ১০ মে ঢাকা শাহবাগে তিনি তাঁর সন্তানকে কোলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অবস্থান নেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, তাঁর সন্তানও বড় হয়ে দেশের জন্য লড়বে, প্রয়োজনে তার বাবার মতোই শহীদ হবে।

ভোলা জেলা প্রশাসনের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের তালিকায় শাহজাহানের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরিবারটি এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সুবিধা পায়নি। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে এ বছর কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁকে ডাকা হয়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...