ভাঙন ঠেকাতে প্রাকৃতিক ঢাল গোলপাতার সবুজ বেষ্টনী

নুরুল আলম, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

ভাঙন ঠেকাতে প্রাকৃতিক ঢাল গোলপাতার সবুজ বেষ্টনী

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলে জেগে ওঠা নতুন চরজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে উঠছে গোলপাতার সবুজ বেষ্টনী। খালপাড়জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বেড়ে ওঠা এ গাছগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান রূপ নিতে শুরু করেছে, যা উপকূলে নতুন এক প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বাঁধের বাইরে নতুন চর জেগে ওঠায় তা রক্ষায় নেওয়া হয় এ বনায়ন কর্মসূচি। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপজেলার ডোমখালী, মঘাদিয়া ও বামনসুন্দর বিট এলাকায় প্রায় ৮২০ হেক্টর জমিতে বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বন বিভাগের ‘সুফল’ প্রকল্পের আওতায় কেওড়া ও বাইনগাছের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে গোলপাতা রোপণ শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

ইছাখালী ও বামনসুন্দর বিটের অন্তর্গত চার শাখা খালের দুই তীর ধরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় গোলপাতার বীজ ও চারা লাগানো হয়। এ জন্য সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আনা হয় প্রায় ২০ হাজার বীজ এবং বরিশাল থেকে সংগ্রহ করা হয় ১০ হাজার চারা। যদিও রোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু গাছ নষ্ট হয়েছে, তবু বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার গোলপাতগাছ টিকে আছে এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলপাতা ম্যানগ্রোভ বনের একমাত্র পাম প্রজাতি, যা সাধারণত সুন্দরবন অঞ্চলে জন্মায়। এর শিকড় জালের মতো মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে । ফলে উপকূলীয় ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এ গাছ জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ বনায়ন নিয়ে আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাহেরখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গোলপাতার নাম বইয়ে পড়েছি । কিন্তু কখনো দেখিনি। এখন নিজের এলাকায় এ গাছ দেখে ভালো লাগছে।’

ডোমখালীর বাসিন্দা প্রাণহরি জলদাস বলেন, ‘শুরুর দিকে অনেকে গাছ চিনতে পারেনি। এখন সবাই জানে এগুলো গোলপাতা। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখির সংখ্যাও বেড়েছে।’

উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহান শাহ নওশাদ বলেন, ‘খালপাড়ের মাটি শক্ত করে ভাঙন রোধ ও জীববৈচিত্র্য বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে গোলপাতার বনায়ন করা হয়েছিল। প্রতিকূল পরিবেশেও গাছগুলো টিকে আছে, যা আশাব্যঞ্জক। দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপকূল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপকূলজুড়ে গড়ে ওঠা এ সবুজ বেষ্টনী শুধু ভাঙন প্রতিরোধে নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন