বিপর্যস্ত সুদানের অসহায় মুসলমানদের জন্য লাখ লাখ টাকার আটার বস্তা বিতরণ করছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান জিয়া বিন রাসেল। চলতি সপ্তাহে তাঁর সহযোগিতায় দেশটিতে পাঁচ হাজার কেজির বেশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শিগগিরই এই পরিমাণ ১০ হাজার কেজিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
সুদানের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন জিয়া বিন রাসেল। বছরজুড়ে এসব কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতার পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানবিক কর্মী মুহাম্মদ রাজের সঙ্গে পরামর্শ করে ইংল্যান্ড থেকেই এসব প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অবরুদ্ধ গাজার মানুষের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও তাঁবুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাঁর সহযোগিতায়। মিসর হয়ে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য বাস্তুচ্যুত ও অসহায় পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা পূরণ করা। সুদানে খাদ্যসহায়তা এবং গাজায় জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে মুহাম্মদ রাজের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নওমুসলিম পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল মানুষদের স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন জিয়া বিন রাসেল। চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণসহায়তা থেকে শুরু করে রমজান ও কোরবানিভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রমেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ।
মানবিক কাজের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী। ইংল্যান্ডে একটি বড় মদের বারকে কিনে মসজিদে রূপান্তর করেছেন তিনি। মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের ইবাদতের পরিধি বাড়ানোর এই উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কার্যক্রমে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
জিয়া বিন রাসেলের সঙ্গে মুহাম্মদ রাজের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই তাঁকে ভাই হিসেবে পাশে পেয়েছেন রাজ; ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে নিজের অভিভাবকও মনে করেন তিনি। এই আস্থা ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে তাঁরা বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কোথায় সহায়তা বেশি জরুরি এবং কীভাবে তা প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়—এসব বিষয়ে তাঁরা নিয়মিত পরামর্শ করেন।
ইংল্যান্ডে অবস্থান করেও বাংলাদেশ, গাজা ও সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন জিয়া বিন রাসেল। সুদানে চলমান খাদ্যসহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।
জিয়া বিন রাসেল বলেন, ‘এই সহযোগিতা গাজায় যায়, সুদানে যায়, আবার আমার দেশের দূর গ্রামেও যায়। সহযোগিতা জানে না সে কোন দেশে পৌঁছাল। আমি তো শুধু হাতবদল করি! যা আমার হাতে আসে, তা আমার নয়, আমানত। যিনি এগুলো দিয়েছেন, তিনিই একদিন হিসাব নেবেন। সেদিন যেন বলতে পারি—একটা হাতও খালি ফেরাইনি। তাই আমি দেশ দেখি না, মানুষ দেখি।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

