পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জাহাজটি নোঙর তুলে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করে। এতে থাকা বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিকের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। কয়েক দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো মানসিক চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে তাদের।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দুপুর ১২টায় দেখা যায়, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে রওনা দিয়ে দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে। তখন জাহাজটির গতিবেগ দেখাচ্ছিল ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল। ১০ দশমিক ৮০ মিটার ড্রাফটের এই বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরের দিকে যাচ্ছে। তবে সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রথমেই পার হতে হবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বুধবার দুপুরে বিপিসিকে জানান, রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দাম্মামের বহির্নোঙরে ছিলেন তারা। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর আজ ভোরে নোঙর তোলা হয়েছে। এখন সরাসরি হরমুজের দিকে যাচ্ছে। হরমুজ পার হলে জাহাজটি দক্ষিণ আটলান্টিকের পথে কেপটাউনের দিকে যাবে।
তিনি জানান, তারা এখন হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৪২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে। স্বাভাবিক গতিতে চললে এটি পার হতে আরও কমপক্ষে দুই দিন বা ৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে।
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন জাহাজটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। সেখানেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে। দ্রুত বিস্তার লাভ করে সংঘাত, যা সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক পরিবহনকে অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে ফেলে। আন্তর্জাতিক শিপিং নির্দেশনায় হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরের কিছু অংশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সমুদ্রপথে চলাচলরত অনেক বাণিজ্যিক জাহাজকে অপেক্ষা করতে হয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা জানান, জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটির পণ্য খালাস শেষ হয় ১১ মার্চ। এরপর কুয়েতে নতুন কার্গো বোঝাই করার সূচি ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় বিএসসি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
সে অনুযায়ী বাংলার জয়যাত্রা হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে নিরাপত্তার কারণে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হয়। জাহাজটি কোথাও আটকা পড়েনি, তবে সমুদ্রপথে নিরাপদে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি না থাকা অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগোনো সম্ভব ছিল না বলে জানান তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

