স্বজনদের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু মাঝপথে বাস বিকল হয়ে পড়ায় মহাসড়কের পাশে গাছের গুঁড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলেন কয়েকজন যাত্রী। বাস মেরামত শেষ হলে আবার শুরু হবে যাত্রা—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের ওপর উঠে যায় একটি লরি। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা রয়েল গেটের কিছুটা উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জগামী ‘শাপলা পরিবহন’-এর একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়লে চালক তা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে অবস্থান নেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গাছের গুঁড়ির ওপর বসেছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগামী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁদের ওপর উঠে যায়।
সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ওসি সার্জেন্ট শামীম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।’
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে নিহত তিনজনের মরদেহ সীতাকুণ্ড থানায় রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তে কিশোরগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। হাসপাতালে মারা যাওয়া দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া বিকল বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে বিকল হওয়া যানবাহনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। বাসটি মেরামতের সময় যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, পেছনে কোনো সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছিল কি না এবং লরিটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল—তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যাঁরা প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আশায় পথে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের শেষ যাত্রা হলো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিচয় পাওয়ার অপেক্ষায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনেরা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদারে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সচেতন মহলের।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


