জ্বালানি সংকট নিয়ে সারা দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। এ মুহূর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকার বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনতে অফিস-আদালতের কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। পাশাপাশি সারা দেশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়ায় চলছে দুটি বৈশাখী মেলা। সেখানে করা হয়েছে ব্যাপক আলোকসজ্জা, আর মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বাদ্যযন্ত্রের বাজনাও।
জানা গেছে, বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও পটিয়ায় পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে ১০ এপ্রিল শুক্রবার থেকে পটিয়ায় শুরু হয়েছে দুটি বৈশাখী মেলা। একটি পটিয়া পৌর সদরের পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, অন্যটি পৌর সদরের শেষ প্রান্ত কাগজী পাড়া রুকু গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে। মেলার সময়সীমা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে মেলা পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ এই সময়সীমা মানছে না। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ১০টা পর্যন্তও মেলা চলতে দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোকসজ্জানির্ভর এই আয়োজন নিয়ে সচেতন মহলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এমন সময়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারনির্ভর আয়োজন কতটা সময়োপযোগী, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সেখানে আলোকসজ্জা করে মেলা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক ঘণ্টা পর পৌর সদরের কাগজী পাড়া রুকু গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আরও বেশি আলোকসজ্জা ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দে মুখর পরিবেশ। সরকারি নির্দেশনা মানা হয়নি। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলছিল।
পটিয়ার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. লিয়াকত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকার যেখানে শিক্ষা কার্যক্রমেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আলোকসজ্জাসমৃদ্ধ মেলার আয়োজন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
পটিয়া বৈশাখী মেলার দোকান কমিটির আহ্বায়ক অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান খোলা রাখার অনুমতি নেই। আমরা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখছি। কেউ এর বাইরে খোলা রাখতে চাইলে প্রশাসন বন্ধ করে দিতে পারে।
রুকু গার্ডেনের মেলার আয়োজক মাসুদ গ্রুপের ম্যানেজার সেলিম মাহমুদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রথম দিন হিসেবে আমাদের ভুল ছিল। আমরা সরকারি নির্দেশনাটি ঠিক জানতাম না, সে কারণে হয়েছে। শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা ৭টায় লাইট বন্ধ করে দিয়েছি। কিছু দোকানে মালামাল গোছাতে হয়তো সময় লেগেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


চুক্তি না হওয়ায় পরস্পরকে দোষারোপ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের