শিবালয় উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি ফিলিং স্টেশনে কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় অবস্থিত রুমি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার। ফিলিং স্টেশনটি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খানের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
অভিযানে অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার এস এম বাবুল হাসান এবং ক্রেতা মো. মামুনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিবালয় থানা-এ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সুযোগে কিছু অসাধু চক্র কালোবাজারে তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের তেল ডিপো থেকে আনা প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ না করে বুধবার রাতে টেপড়া এলাকার ‘মামুন ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মামুনের কাছে বিক্রি করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়। ম্যানেজার বাবুল হাসান অভিযোগ স্বীকার করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
পরে মামুনের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ২১টি ব্যারেলে সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। জ্বালানি বিক্রির বৈধ লাইসেন্স না থাকায় তাকেও আটক করা হয়। পাশাপাশি পেট্রোল পরিবহনকারী একটি লরি জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার জানান, ফিলিং স্টেশনের নামে আনা জ্বালানি কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত পেট্রোল বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বিশেষ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

