৩০০ বছরের ঐতিহাসিক মালকা বানু মসজিদ

মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

৩০০ বছরের ঐতিহাসিক মালকা বানু মসজিদ

কালের সাক্ষী হয়ে ৩০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে মোগল স্থাপত্য বাঁশখালীর মালকা বানু মসজিদ।

জানা গেছে, মালকা বানু চৌধুরী জামে মসজিদ চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। ১৭৩০ সালে নির্মিত এটি মোগল স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম একটি নিদর্শন। জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরী তার একমাত্র মেয়ে মালকা বানু চৌধুরীর স্মৃতিতে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বাঁশখালীর মালকা বানু ও আনোয়ারার মনু মিয়ার কাহিনি নিয়ে রচিত হয়েছে লোকগান, পালা, পুঁথি এমনকি চলচ্চিত্রও। মালকা বানুর মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশখালী উপজেলায়।

বিজ্ঞাপন

বাংলার সুবেদার মোগল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় ছেলে শাহজাদা সুজার সেনাপতি ছিলেন শেরমস্ত খাঁ। এই শেরমস্ত খাঁর ছেলে জবরদস্ত খাঁ-ই হলেন মনু মিয়া। তিনি কাট্টলীর জমিদার দেওয়ান বদিউজ্জমানের বোন খোরসা বানুকে বিয়ে করেন। নিঃসন্তান হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাঁশখালীর জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর মেয়ে মালকা বানুকে।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ওই মসজিদ নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় ছিল। ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বাড়াতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ২০১০ সালে মসজিদটিতে টালি সংযোজন ও সংস্কার করে।

২০ ও ৪০ ফুট আয়তনের মসজিদের দেয়ালজুড়ে এবং ভেতরে-বাইরে ফুটিয়ে তোলা হয় সুন্দর কারুকাজ, মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ ও দুপাশে রয়েছে ছোট আকৃতির কয়েকটি গম্বুজ।

জানা যায়, মনু মিয়ার শ্বশুর আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর সাত ছেলে ও একমাত্র মেয়ে মালকা বানু চৌধুরী।

মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নিঃসঙ্গ পিতা মালকা বানুর নামে খনন করেন দিঘি ও নির্মাণ করেন একটি মসজিদ, যা ‘মালকা বানু মসজিদ’ নামে পরিচিত। দিঘিটি ভরাট হয়ে গেলেও এর পশ্চিম পাশে শত বছরের প্রাচীন মসজিদটি এখনো টিকে আছে। মসজিদের পূর্ব পাশে দেয়ালে ফরাসি ভাষায় লেখা একটি ফলক ছিল, যেটি ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায়।

সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল—‘মুঘল শাসনামলের শেষদিকে জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। মালকা বানু চৌধুরীর ছোট ভাইয়ের বংশধর মরহুম ফৌজুল কবির চৌধুরী ১৯৭৮ সালে মসজিদটি প্রথম সংস্কার করেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও এর শ্রীবৃদ্ধিকরণে ২০১০ সালে মসজিদটিতে টালি সংযোজন ও সংস্কার করে। বর্তমানে মরহুম ফৌজুল কবির চৌধুরীর বংশধররা মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করছেন’।

মালকা বানুও ছিলেন নিঃসন্তান। মনু মিয়ার মৃত্যুর পর তিনি চলে এসেছিলেন বাঁশখালীর সরল গ্রামে বাবার বাড়িতে।

মালকা বানুর মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে প্রতিদিন ভেসে আসে কল্যাণের আহ্বান, হাইয়া আলাল ফালাহ—এসো কল্যাণের পথে। অনেকেই মালকা বানুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে আজও দোয়া চান মহান আল্লাহর দরবারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...