জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার কামরাবাদে মেসার্স ঝিনাই ফিলিং স্টেশন ও জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকার মেসার্স চান ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহে নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের দাপটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে অধিকাংশ কৃষক তেল না পেলেও অর্থের বিনিময়ে আগে তেল পাওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সরিষাবাড়ী-দিকপাইত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানা গেছে। তেল না পেয়ে কৃষক রবিউল ইসলাম, শাহজাহান আলী ও ওমর আলী জানান, ভুট্টা ও ধান চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। ভলান্টিয়ার সিন্ডিকেট প্রভাব খাটিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একই ব্যক্তি একাধিকবার পেট্রোল নিচ্ছেন বলেও তারা জানান।
অপরদিকে, জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকার মেসার্স চান ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল না পেয়ে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ধইঞ্চা চরের দুলাল মন্ডল, হোসেন আলী এবং মেদুর গ্রামের হানিফ উদ্দিন বলেন, গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে ডিজেল না পেয়ে জমিতে পানি দিতে পারছেন না। ফলে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে।
ফুলদহ পাড়ার হোসেন মোল্লা বলেন, আমার প্রকল্পে ১৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি, কিন্তু তেল পাচ্ছি না। পিংনা বাজার মসজিদের দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেনারেটরের জন্য তেল পাচ্ছি না। কৃষক হাবিবুর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ধান ও ভুট্টা চাষ করছি। কয়েকদিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু তেল পাচ্ছি না।
তারা আরো জানান, পাম্পের মালিক ৩ থেকে ৪ শত কৃষকের মধ্যে মাত্র ১৩০ জনকে ডিজেল দিয়েছেন। দিনমজুরি করলে ৬০০ টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু তেলের জন্য সারাদিন বসে থেকেও ভাগ্য ভালো থাকলে মাত্র ৩ লিটার তেল পাওয়া সম্ভব হয়। কৃষকরা বলেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের পরিবর্তে বাণিজ্যিক যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করায় কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। তারা সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ ও ন্যায্য উপায়ে জ্বালানি বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঝিনাই ফিলিং স্টেশনের প্রোপাইটার আনোয়ারুল কবীর তালুকদার তুহিন এবং চান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিজা রিছিল বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


বিশ্ববাজারের তুলনায় তেলের দাম ‘সামান্য’ বেড়েছে
তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে লাইন কমেনি