নাটোর শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় পরকীয়াজনিত পারিবারিক কলহের জেরে পুত্রবধূর বালতির আঘাতে শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শাহারা বেগম (৫৫)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পুত্রবধূ কলি খাতুন পলাতক রয়েছেন।
নিহত শাহারা বেগম বড় হরিশপুর চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার মৃত মুনসুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহারা বেগমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বিদেশে থাকাকালীন তার স্ত্রী কলি খাতুন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানতে পারেন শাহারা বেগম। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। শাহারা বেগমকে কলি খাতুন বিভিন্ন সময়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করেন। খবর পেয়ে সাইফুল ইসলাম বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন, তবে এর পরও পারিবারিক কলহ থামেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কলি খাতুন তার শাশুড়ি শাহারা বেগমের মাথায় বালতি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের সদস্যরা শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক মনে করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে রাতে আবার শাহারা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কলি খাতুন নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, উক্ত পরিবারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ বিষয়ে পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযুক্ত কলি খাতুন বর্তমানে পলাতক এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

