মাদকে ভাসছে রৌমারী, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

উপজেলা প্রতিনিধি, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

মাদকে ভাসছে রৌমারী, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
রৌমারী থানা

মাদকে ভাসছে কুড়িগ্রামের রৌমারী। মাদকের ছড়াছড়ি ও ভয়াবহতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রৌমারী উপজেলার সর্বসাধারণ মানুষ। মাদক সহজলভ্য হওয়ার কারণে মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে ছাত্র ও যুবসমাজ। মাঝে-মধ্যে দু-একজন চুনোপুঁটিঁ মাদক কারবারিকে আটক করা হলেও মূল হোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে ।

ভারতের আসাম সীমান্তের ১৬টি পয়েন্ট ও বাংলাদেশের রৌমারীর ২৪টি পয়েন্টে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। এসব মাদকদ্রব্য রৌমারী টু ঢাকা ভায়া জামালপুর, শেরপুর ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও রৌমারী ফলুয়ারচর নেকৗা ঘাট হতে বাহাদুরাবাদ ফেরীঘাট ভায়া গাইবান্ধা ফেরীঘাট হয়ে একাধিক হাত, পোশাক ও যান বদল করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছে মাদক কারবারিচক্র।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকের নিরাপদ জোন হিসেবে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর, খেতারচর, ছাট কড়াই বাড়ি়ি, ধর্মপুর, চরবোয়ালমারী, চরেরগ্রাম, ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, শৌলমারীর গয়টাপাড়া, কলমেরচর, বেহুলারচর, মোল্লারচর, রেমৗারী সদর খাটিয়ামারী, চান্দারচর, রতনপুর, ফুলবাড়ি, চরফুলবাড়ি, চর নতুনবন্দর, ভুন্দুরচর, বড়াইবাড়ি ও যাদুরচর ইউনিয়নের আলগারচর, বকবান্দা ও খেওয়ারচর উল্লেখযোগ্য।

এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে মদ ও গাঁজা ফেন্সিডিল ও ইয়াবা প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসছে প্রতিনিয়ত। অনেকের মতে রেমৗারী থানা পুলিশের গ্রীন সিগনালে মাদক কারবারীরা বেশি সক্রিয় হচ্ছে। থানা ম্যানেজ করার কারণে মুলহোতারা থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।

মাঝে মাঝে চুনোপুঁটিসহ দুই-একজন মাদক কারবারিকে আটক করেন বটে যা জনগণকে আইওয়াশ মাত্র। আন্তর্জাতিক পিলার ১০৪৭ হতে ১০৭২ পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে নিত্যদিন ভারত থেকে আসা কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

উপজেলার আলোচিত মাদককারবারি হচ্ছেন- সদর ইউনিয়নের চর নতুন বন্দর গ্রামের মঞ্জু মিয়া (৫৬) ও তার দুই ছেলে রফিক (৩৭), রহিম বাদশা (৩১), রোকন (৩৭) ও তার ভাই রিপন (৩৪ ) খাটিয়ামারীর সুমন (২৬), একই এলাকার সাদ্দাম হোসেন (২৬), ফকির চাঁন (৪৩) ও কিনু মিয়া (৫১), রতনপুরের রাসেল (২৩), আকিদুল (৩৮), আশরাফুল (২৬), জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), আমির হোসেন (৩৮), সদর ইউনিয়নের ৪,৫, ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা আক্তারের স্বামী চর রতনপুরের মজনু ওরফে টিটি মজনু (৪১), নওদাপাড়ার নৈমুদ্দিন (৩২), আলম মিয়া (৩৫) ভন্দুর চরের ভুলু মিয়া (৩৪) চার ভাই দুলাল (২৮) ধলু (৩৪), মাইদুল (৩৭) ও আপেল (৪৬) একই গ্রামের মশিউর (২৮), বেপারীপাড়ার আনিস ওরফে কালা আনিস (৪১), ফারুক ওরফে ফারুক চোর (৩৯), রতনপুরের শাহ আলম মেম্বার (৪৫), বামনের চরের সফিকুল মেম্বার (৩৫), আজাদুল (৩৪), শাকিল (২২), আক্কাস আলী (৩৭) বাওয়াইরগ্রামের শাহার আলী (৩৫), ঝাউবাড়ির শহিদ (৪০), ফুলচাঁন (৪৫), ফুল মিয়া (৪০), দুবলাবাড়ির মাসুম (৩৭)।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর টাপুরচরগ্রামের নূর মোহাম্মদ ওরফে ডন (৩৮), মঞ্জু কানা (৪৫), মাসুদ রানা (২৬), ফজলুল হক ( ৩৯), কাউয়ারচরের বুদ্ধি মিয়া (৪২) । শেলৗমারী ইউনিয়নের চর বোয়ালমারীর ইউনুছ কারী ওরফে গাঞ্জা কারী ৫২), ফকির পাড়ার নূর আলম (৪২), গয়টাপাড়ার এরশাদুল (৪৩), সোনা মিয়া (৩৯), সওদাগর ( ৪৬)।

বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচরের আনোয়ার হোসেন (৪৮), মাইদুল ইসলমা (৪০)। যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ির নূরুন্নবী (৩৭), আগলারচরের হায়দার আলী মেম্বার (৪৫) ও তার ভাই লাল মিয়া পাহাড়ী ((৪৩) ছফিয়াল মুন্সী (৫৫), অসাদ (৫০), নুরুল হক (৪৪), ছায়দার (৪৮) ও তার ভাই লুৎফর (৪৬) মিনারুল (২৫) তার ভাই ও দুলাল ( ৪১) । পুরুষ মাদক ব্যবসয়ীরা সাথে নারী মাদক ব্যবসায়ীরাও বেশ সক্রিয়। যাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাদের সালাম-লায়লা দম্পতি, ববিউল ইসলাম, লুৎফর রহমান, সায়দার, বড়াইকান্দির ময়না খাতুন (৩২), রতনপুর গ্রামের রাশেদা বেগম (৩১) নওদাপাড়ার সেলিনা পারভীন (৩৬)।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, মূলহোতাদের হাত থেকে মাদক ক্রয় করে নানা হাত বদলিয়ে মাদক যায় মাদকসেবীদের হাতে। অনেকে ট্রিপ পদ্ধতিতে মাদক চালানের বাহক হিসেবে দিনমজুরের কাজও করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আমার দেশকে বলেন, কোথাও দিনমজুরের কাজ করার চেয়ে কায়দা মত এক ট্রিপ দিলে পনেরো দিনের ইনকাম হয়। ঝুঁকির প্রশ্নে তিনি বলেন- মহাজনরা তো সব মিটায়ে আমাদের হাতে তুলে দেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য। জেলে গেলে তারাই ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।

বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শুমারি মতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ২০২৪ সালে ৩৩ হাজার ৮৯৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ফেনসিডিল, হেরোইন, টাপেন্ডাটলসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলায় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক- মো. রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, রেমৗারী উপজেলার সীমান্তবতীর্ যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ার কারণে মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের অনেকটা বেগ পেতে হয়। তবে মাদ্রকনিয়ন্ত্রণে আমাদের যথেষ্ট প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন- আমরা সপ্তাহে সাত দিন মাসে ত্রিশ দিনই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত । থানা ম্যানেজ করার ব্যাপারে তিনি বলেন- পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটা মহল এমন অপপ্রচার করছেন।

জামালপুর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (৩৫বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল হাসান বলেন- ভারতীয় নাগরিক যাতে পুশইন করতে না পারে একই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সক্রিয় ও তৎপর আছে বিজিবি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...