কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্ত সংঘর্ষের ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, রাজীবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী, কলাবাড়ী বিবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর হোসেন, শহীদ ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদুজ্জামানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং যুদ্ধাহত সিপাহী এসএম জাহিদুন্নবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান পলাশ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বড়াইবাড়ী দিবসকে দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এদিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোররাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনাধিকার প্রবেশ করে এবং গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে বিএসএফের ১৬ জন সদস্য নিহত হয়।
ওই সংঘর্ষে বিডিআরের ৩৩ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজুর রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। এছাড়া হাবিলদার আব্দুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবু বক্কর সিদ্দিক, সিপাহী হাবিবুর রহমান ও সিপাহী জাহিদুন্নবীসহ আরও অনেকে আহত হন।
এ ঘটনায় বড়াইবাড়ী গ্রামের ৮৯টি বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সরকারি হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা। দিনটি আজও সীমান্তবাসীর কাছে বেদনা ও গৌরবের এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

