দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক (রেবিস) ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহত রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১৪৮ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন এবং ৪৮টি এন্টি ভেনাম সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে শুধু জলাতঙ্ক নয়, সাপের কামড়ের মতো জরুরি চিকিৎসা সেবাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনিমা তরফদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট ছিল, যা আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরবরাহকৃত ১৪৮ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ও ৪৮টি এন্টি ভেনাম রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকট না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিন ও এন্টি ভেনাম সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

