লালমনিরহাট পৌরসভার নবাবেরহাট এলাকায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ কবির ও লালমনিরহাট জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া ও মারধরের ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে পৌর শহরের নবাবেরহাট এলাকায় ওই ভাঙচুর করে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল। এ সময় অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরকে মারধর করা হয় এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে অপদস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতেই ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তা আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করে।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ওই আইনজীবী। মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভার নবাবেরহাট এলাকায় ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই আইনজীবীর ভাই এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ কবির লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাদের পৈতৃক জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। সোমবার দুপুরে তিনি আদালত চত্বরে অবস্থানকালে বাড়ি থেকে ফোনে জানতে পারেন যে, বুলডোজার নিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক তাদের বাড়ির সামনে এসে দেয়াল ভাঙচুর করছে। পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা আইনজীবী হুমায়ুন কবিরকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং টেনেহিঁচড়ে অপদস্ত করে। পরে ট্রিপল নাইনে ফোন করলেও ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে থাকা পুলিশ আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। আর এর মধ্যেই বসতবাড়ির দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই আইনজীবীর। পরে মারধরের শিকার আইনজীবী হাসপাতালে ভর্তি হন।
অপরদিকে একই দিন রাত ৮টায় পৌরসভার ওই নবাবেরহাট এলাকার নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ভেঙে দেওয়া জায়গার মালিক দাবি করেছেন প্রতিপক্ষ ফরহাদ আলম সম্রাট।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবি পার্টি। দলটির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ফিরোজ কবিরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দিনদুপুরে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ি ভেঙে দেওয়া কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। এটি শুধু ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর নগ্ন দমন-পীড়নের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

