জনবলের সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চরম ভোগান্তি

কাজী গোলাম কিবরিয়া, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

জনবলের সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চরম ভোগান্তি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের তীব্র সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চা অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক চা-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে ভিড় করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মী না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী এক চা-শ্রমিক সাধন দাশ জানান, ‘চার দিন ধরে হাসপাতালে আসছি, কিন্তু কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।’ তার মতো অনেক রোগীই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে জনবল বৃদ্ধি না হওয়ায় বর্তমানে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অনুমোদিত ১৪৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০৮ জন, ফলে ৩৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসকের সংকটের কারণে উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকদের এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে টেকনিশিয়ানের অভাবে আধুনিক এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্থায়ী গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতিসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৯০০ রোগী সেবা নিচ্ছে। অন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকে ৫৫ থেকে ৭৫ জন রোগী এবং জরুরি বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে। অথচ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসক ও কর্মীরা অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিসংখ্যানবিদ, হেলথ এডুকেটর, কম্পিউটার অপারেটর, কার্ডিওগ্রাফার, স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদও খালি রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন আমার দেশকে বলেন, ‘স্বল্প জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রকট। পর্যাপ্ত জনবল পেলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হতো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পদগুলো পূরণ করা হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন