দেশব্যাপী ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধ, বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে সংস্থাটি সমন্বিত অভিযান জোরদার করেছে র্যাব এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।
গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার র্যাব প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে মোট ২০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৫ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয় এবং বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ফেনী জেলার ইসলাম রোড এলাকায় একটি ভোজ্যতেলের গুদামে অবৈধ মজুতের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে রাজধানীর পল্টন, শান্তিনগর, নয়াপল্টন ও পুরান পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যশোরের কোতোয়ালি এলাকায় ‘মেসার্স নওয়াব মিল’-এ ১৬ হাজার ৫২৪ লিটার সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রংপুরেও বাজার মনিটরিং জোরদার করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকার সাভার, পল্লবী, শাহ আলী ও কক্সবাজারে পরিচালিত অভিযানে তেলের মজুতে বড় ধরনের অনিয়ম না পাওয়া গেলেও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। তবে শ্যামপুরের জুরাইন বাজারে পৃথক অভিযানে সরকারি এমএস চালের ১ হাজার ৭০৫ বস্তা ও ৫০০ বস্তা আটা অবৈধভাবে মজুতের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। জব্দকৃত পণ্য পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৮ হাজার ৫০০ লিটার ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুতের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নরসিংদীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, ঢাকার ডেমরা এবং হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে অবৈধ উৎপাদন, মজুত, ভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল ব্যবহার এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

