জ্বালানি সংকটে অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ

রংপুরে বেড়েছে জ্বালানির সংকট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা

মেজবাহুল হিমেল, রংপুর

রংপুরে বেড়েছে জ্বালানির সংকট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা
ছবি: আমার দেশ

মাস দেড়েক পেরিয়ে গেলেও কাটেনি রংপুর বিভাগের জ্বালানি তেলের সংকট, বরং বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে সেটাও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দেওয়ায় জটিলতা আরো বেড়েছে। অনেকেই তেল মজুত করে তা চড়াদামে বিক্রি করছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও অনেক সময় মিলছে না তেল। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ লিটার। সোয়া পাঁচ লাখ লিটার পেট্রোলের চাহিদার বিপরীতে সোয়া দুই লাখ লিটার এবং দুই লাখ ৭৫ হাজার লিটার অকটেনের বিপরীতে ৮৫ হাজার লিটার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি প্রায় দেড় মাস ধরে। কোনো উন্নতি নেই। তার ওপর সরকার নির্ধারিত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা এবং শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল দেওয়ার ঘটনায় ভোগান্তি এখন চরমে।

বিজ্ঞাপন

নগরীর শাপলা ইউনিক পাম্পে সকাল ৮টায় তেল নিতে আসেন বাবুল বর্মণ। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি করেন। নিজের বাইকে তেল না থাকায় আটদিন বাইক চালাতে পারেননি। গত বৃহস্পতিবার বন্ধুর কাছ থেকে এক লিটার ধার নিয়ে রংপুরের বাড়িতে আসেন। তেল নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় তিনি অনেকটা বিরক্তির সুরে বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তেল দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। তাহলে আমি অফিস করব কখন, তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকব কখন।

পাম্পে তেল নিতে আসা স্কুলশিক্ষক ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তেল দেওয়ার যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একেবারেই ঠিক হয়নি। সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল আমার জানা নেই। অবশ্যই শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে তেল দেওয়া উচিত।

নগরীর রহমান পাম্পে তেল নিতে এসেও লম্বা লাইন দেখতে পান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, বাইকের চাকা না ঘুরলে আমাদের চাকরি থাকে না। তেল নিতেই প্রতিদন প্রায় চার ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে। তার ওপর গ্রাহকের কাছে কখন যাব আর কখন টার্গেট পূরণ করব।

রহমান পাম্পের ম্যানেজার মাসুম বলেন, গত ছয়দিন আগে আমরা তিন হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলাম । গত দুদিন আগে পেয়েছি আরো এক হাজার ৫০০ লিটার। ডিপো থেকে আমাদের পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা দেওয়া হচ্ছে তাতে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

রংপুরের সালেক পাম্পের ম্যানেজার ওবায়দুল ইসলাম ডাবলু বলেন, আমরা চাহিদা মতো তেল পাচ্ছি না । পাঁচ-ছয়দিন পরপর আমাদের ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে। ফলে একদিন তেল দিলে চার-পাঁচদিন পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

রংপুর বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সংঘাতের আগে প্রতিদিন ৩৫০টির বেশি পাম্প থেকে রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। তেল সংকটে ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি যেগুলোতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানেও ডিপো থেকে চাহিদা অনুসারে তেল মিলছে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্রুত উন্নতি না হলে পাম্পমালিকরা ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়বেন।

জ্বালানি তেলের সংকটের সমাধান সম্পর্কে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের সরবরাহ ঠিক আছে। অকটেন-পেট্রোলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি আছে। আশা করি, দ্রুত সংকট সমাধান হবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...