প্রশাসক অপসারণ ও চাঁদাবাজদের শাস্তি দাবি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রশাসক অপসারণ ও চাঁদাবাজদের শাস্তি দাবি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির
ছবি: আমার দেশ

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি (মুমুপকস)-এর প্রশাসকের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ এনে তার অপসারণ, চিহ্নিত চাঁদাবাজ নঈম জাহাঙ্গীর চক্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং নিরপরাধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরের বিজয় রাকিন সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানান তারা। দাবিগুলো উপস্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বারী।

বিজ্ঞাপন

আবদুল বারী বলেন, চাঁদাবাজ নঈম জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দুর্নীতিবাজ প্রশাসককে অপসারণ ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে আমাদের দিতে হবে। ২০১৪ সালের বৈধ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে দ্রুত স্বচ্ছ নির্বাচন এবং সকল বৈধ ফ্ল্যাট ও জমির মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মিরপুর সড়ক অবরোধ করে অনশন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মানববন্ধনে বিজয় রাকিন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স মালিক সমিতির সভাপতি ও মুমুপকস সদস্য সরদার ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের সংগঠনে যে প্রশাসক সরকার দিয়েছে, তার কাজ ছিল নতুন কমিটি গঠন করা নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু সেটি না করে তিনি আমাদের অর্থ লোপাট করেছে। আগে যে প্রশাসক ছিল, সে একই কাজ করেছেন। বর্তমান প্রশাসকও তাই করছে। আমরা তার অপসারণ চাই।

ইঞ্জিনিয়ার এটিএম খালেদুজ্জামান বলেন, এ প্রশাসক মিথ্যাচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে হেনস্তা করছে। যার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা তার অপসারণ ও বিচার চাই। সেইসঙ্গে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। অথচ তারা নির্বাচন না করে আমাদের টাকা লুট করছে।

মো. আলম ইবনে হাই বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাফরুল এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ নঈম জাহাঙ্গীর ও বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চক্রটি সমিতির কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে গেটে তালা লাগিয়ে দেয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্ত চলাকালীন সরকারি কর্মকর্তাদের জিম্মি করে এক বীভৎস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

মানববন্ধনে প্রশাসক আবু মো. ইশতিয়াক আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য লুটপাটের অভিযোগ তোলা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গত কয়েক মাসে সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে দাবি করা হয়। বলা হয়, এর আগেও আবু মাসুদ নামক এক প্রশাসক সমিতির ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার মামলা দুদকে চলমান। বর্তমান প্রশাসকও সেই একই দুর্নীতির পথ অনুসরণ করছেন। আমরা প্রত্যেকের শাস্তি চাই। সেইসঙ্গে দ্রুত নির্বাচন চাই।

মানববন্ধনে রাকিন সিটিতে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে মিছিল করে অতিদ্রুত দাবিগুলো মানার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...